ঢাকাSunday , 25 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষক ড. মো. মহিউদ্দিনকে ঘিরে অপপ্রচার, নগরবাসীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: অবৈধ সুবিধা না পেয়ে সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষক ড. মো. মহিউদ্দিনকে ঘিরে অপপ্রচারের , তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জনায় নগরবাসী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন; মূল ফুটেজ ও সম্পাদনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

 

সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং সেটিকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা নিয়ে বরিশালে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অধ্যক্ষের কাছে অনৈতিক বা অবৈধ সুবিধা চেয়েও তা না পেয়ে একটি মহল তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই ভিডিও বা তার অংশবিশেষ প্রচার করে একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করা হয়েছে। অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিন তাঁদের প্রত্যাশিত প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথোপকথনের একপর্যায়ে উত্তেজনা ও বাক্যবিনিময়ের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগকারীদের ভাষ্য।

পরবর্তী সময়ে ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, ভিডিওটি সম্পাদনা করে, আলাদা কণ্ঠস্বর যুক্ত করে অথবা ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে, যাতে অধ্যক্ষকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়। তবে ভিডিওতে সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, আলাদা অডিও যুক্ত করা হয়েছে কি না এবং কারা এটি ধারণ ও প্রচার করেছেন—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনো উপস্থাপিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

অবৈধ সুবিধা প্রত্যাখ্যানের পরই কি বিরূপ প্রচারণা?

একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে কেউ অনৈতিক সুবিধা চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার তাঁর রয়েছে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়, সাংবাদিক পরিচয় কিংবা অন্য কোনো পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অধ্যক্ষের কক্ষে সেদিন প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল? কোনো অনৈতিক বা অবৈধ সুবিধা চাওয়া হয়েছিল কি না? অধ্যক্ষের সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিরোধের প্রকৃত কারণ কী ছিল? আর সেই ঘটনার ভিডিও পরবর্তী সময়ে কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল?

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ার পর অধ্যক্ষকে ঘিরে বিরূপ প্রচারণা শুরু হয়েছে। যদি তথ্যপ্রমাণে এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়; বরং একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পরিবেশ ও সুনামের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনার সময়কার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত চিত্র সামনে আনা উচিত।

ভিডিওর আংশিক দৃশ্য দিয়ে কি একজনকে বিতর্কিত করা যায়?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে কয়েক মুহূর্তই যথেষ্ট। অথচ সেই ভিডিওর আগে কী ঘটেছিল, পরে কী ঘটেছে, কথোপকথনের কোন অংশ বাদ পড়েছে কিংবা দৃশ্য ও শব্দের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না—এসব বিষয় অনেক সময় দর্শকের অজানাই থেকে যায়।

একটি খণ্ডিত ভিডিও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেটিই পুরো ঘটনার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বিশেষ করে কোনো সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ভিডিওটির মূল সংস্করণ, সম্পাদনার ইতিহাস এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিনকে ঘিরে আলোচিত ভিডিওটির ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। মূল ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংস্করণ পাশাপাশি পরীক্ষা করা, অডিও-ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা এবং ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ভিডিওটি কে ধারণ করেছেন, প্রথম কোথায় প্রকাশ করা হয়েছে, কারা পরবর্তী সময়ে প্রচার করেছেন এবং প্রচারিত সংস্করণে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও অনুসন্ধানের আওতায় আসা উচিত।

সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের তদন্ত হোক

সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। মানুষের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা, অনিয়ম তুলে ধরা এবং ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী মহলের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো বিরোধকে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলে সেটিও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয়, তাঁদের আচরণ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই না করে কাউকে সাংবাদিকতার অপব্যবহারের জন্য দায়ী করা সমীচীন নয়। পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক থাকলে তার নিষ্পত্তিও হওয়া উচিত প্রমাণ ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা চাওয়া হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও সামনে আনা জরুরি। একপক্ষের অভিযোগের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছালে প্রকৃত সত্য আড়ালে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সরকারি বরিশাল কলেজের সুনাম রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি

সরকারি বরিশাল কলেজ বরিশালের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক পরিবেশ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, স্বার্থের সংঘাত কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা উদ্বেগের বিষয়।

একইভাবে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও ধামাচাপা দেওয়া উচিত নয়। অভিযোগ সত্য হলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ অসত্য বা বিভ্রান্তিকর হলে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে। কোনো পক্ষকেই যাচাইয়ের ঊর্ধ্বে রাখা যায় না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটাতে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। গুজব, অনুমান কিংবা সম্পাদিত ভিডিওর ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি।

নিন্দা-প্রতিবাদের পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিনকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে হয়রানি বা হেয় করার চেষ্টা হয়ে থাকলে তার প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রচারিত বক্তব্যের সত্যতা থাকলে সেটিও প্রমাণসহ প্রকাশ করা উচিত।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করা যেতে পারে। মূল ভিডিও সংরক্ষণ, ডিজিটাল সম্পাদনার বিষয়টি পরীক্ষা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রচারিত তথ্যের উৎস যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব।

প্রতিবাদের মূল দাবি হওয়া উচিত—কোনো ব্যক্তি পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে পারবেন না, আবার যাচাইহীন প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে অপরাধী হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষকে ঘিরে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটুক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, সত্য ও ন্যায়বিচারই হোক চূড়ান্ত বিবেচ্য। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগ মিথ্যা বা বিকৃত প্রচারণার ফল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।