শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

ইউরোপে একদিনেই করোনায় মরলো ৩৬৮ জন

ইউরোপে একদিনেই করোনায় মরলো ৩৬৮ জন

ইউরোপের যে তিনটি দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি হয়েছে তারা সবাই জানিয়েছে যে গত একদিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে।

রোববার ইটালিতে ৩৬৮ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮০৯ জনে। স্পেনে একদিনে ৯৭ জন মারা যাওয়ার পর প্রাণহানির সংখ্যা হয়েছে ২৯৪ জন। আর ফ্রান্সে একদিনে ২৯ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে মোট প্রাণহানি হল ১২৭ জন মানুষের।

যুক্তরাজ্যেও একদিনে সব চেয়ে বেশি ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ১৪ জন মারা যাওয়ায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে।

প্রাদুর্ভাবের কারণে ইউরোপের সরকারগুলো নাগরিকদের চলাচল সীমিত করেছে এবং সীমান্তেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

সোমবার সকাল থেকে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক এবং লুক্সেমবার্গের সাথে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে জার্মানি। স্পেনের সাথে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে পর্তুগাল।

নাগরিকদের চলাচল সীমিত করেছে চেক রিপাবলিক সরকার। সরকার ঘোষণা দিয়েছে, দেশের জনগণ কাজে যাওয়া ও ফেরা, খাবার বা ওষুধ কেনা এবং জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আত্মীয়দের বাড়িতে যেতে পারবে। এছাড়া অন্য যেকোনো ধরনের চলাচলে স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাত থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সোমবার থেকে এক সাথে ৫ জনের বেশি মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রিয়া। ২৯ মার্চ পর্যন্ত পাব বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ইউরোপের অনেক দেশেই স্কুল বন্ধ রয়েছে।

চীনের পর ইউরোপেই করোনার সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটেছে। যে কারণে ইউরোপকে করোনা মহামারির কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এদিকে সুইজারল্যান্ড বলেছে যে, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। যা নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২০০ জনে। দেশটিতে ১৪ জন মারা গেছে।

করোনায় ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪,৭৪৭ জন এবং মিলানের ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শুধু লম্বার্ডি এলাকাতেই মারা গেছে ১২১৮ জন।

গত সোমবার পুরো দেশ অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দেয় ইতালি সরকার। নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে নাগরিকদের চলাচলেও। খাবার আর ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য সব কিছু বন্ধ থাকবে। এর আগে স্কুল, ব্যায়ামাগার, জাদুঘর, নাইটক্লাব এবং অন্যান্য স্থান বন্ধ করে দেয়া হয়।

শনিবার ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও ফ্রান্স করোনা ঠেকাতে কঠোর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কাজ কিংবা খাবার ও ওষুধ কেনা ছাড়া সব ধরণের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্পেনের সরকার।

ফ্রান্সে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, সিনেমা এবং বেশিরভাগ দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে।

ব্যাপকহারে সমন্বিত পদক্ষেপ ও সম্পদ দিয়ে মহামারিকে রুখে দিতে সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন।

তিনি বলেছেন, কোনও একক দেশে আলাদাভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে জোটবদ্ধ ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন ভেন্টিলেটর, পরীক্ষার কিট এবং মাস্কের উৎপাদন বাড়াবে এবং পরে সেগুলো অন্য দেশে সরবরাহ করা হবে।

জোটভুক্ত দেশ ছাড়া অন্য দেশে এসব পণ্যের রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ভয়াবহ করোনায় বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০৭ জন। মারা গেছেন আরো ৬৫২০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৭৭৭৬ জন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby