
রকিব উদ্দিন পিয়াল :: সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম এই বরিশাল সফরকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। বরিশালের ভাগ্য আকাশে কতটা উন্নয়নের রুপরেখা দৃশ্যমান হবে তা নিয়ে নানান প্রশ্ন যেন কোনভাবেই পিছু ছাড়ছে না।
অর্থবছরের বাজেটে বৃহত্তর বরিশালে কোন বরাদ্দ না থাকায় হতাশায় যখন নিম্নজ্জিত বরিশাল, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন অনেকে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে অধিসংখ্যক আসন উপহার দেওয়া এই দক্ষিণাঞ্চলের ভাগ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর কে ঘিরে কি ঘটতে যাচ্ছে সেই উৎকণ্ঠার রেশ কেটে যাবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ জনগণ।
দীর্ঘদিন যাবত উন্নয়ন বঞ্চিত বরিশালবাসীর দাবিগুলোর মধ্যে সব থেকে আলোচনায় যে দাবিগুলো রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লাইনের মহাসড়ক, বরিশাল-ভোলা সেতু।
বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় যা নিয়ে ইতিমধ্যে বরিশাল বিভাগীয় আসনের সংসদ সদস্যরা বৃহত্তর বরিশালের সাধারণ জনগণের এই দাবিগুলোর সাথে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন হবে বলে ধারণা করছেন বরিশালবাসী। শুধু তাই নয় নদীবেষ্টিত অপার সম্ভাবনাময় দক্ষিণাঞ্চল শিল্প কল-কারখানার দিক থেকেও পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল মহানগরীতে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীর উন্নয়ন, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার টেকশই উন্নয়ন কে আরও বেশী গতিশীল করার দাবি রয়েছে সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে।
পতিত সরকারের আমলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে কোন বরাদ্দ নিয়ে আসতে পারিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন মেয়ররা। শহরকেন্দ্রিক কিছু কিছু রাস্তাঘাটে নামমাত্র কাজকর্ম হলেও অধিকাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খানা-খন্দের রাস্তাঘাটে নাকাল অবস্থায় দিন পার করছেন নগরবাসী।
বরিশালসহ বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চল কে বলা হয় বিএনপি’র শক্ত ঘাঁটি। যার প্রমাণ জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দিয়ে আসছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং সাধারণ জনগনের যে উৎসাহ উদ্দীপনার বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে তাতে শুধু স্লোগানেই বরণ করা নয়, উন্নয়নের ক্ষুধায় থাকা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর হৃদয় কোঠরে উন্নয়নের তৃষ্ণা মিটাবেন প্রধানমন্ত্রী এমনটাই প্রত্যাশা।

