ঢাকাMonday , 5 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এবার শীত কম পড়বে, স্থায়িত্বও হতে পারে কম : বাড়তে পারে তাপমাত্রা-ঘন কুয়াশার আশঙ্কা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চলতি অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও এবার তাপমাত্রা দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। বরং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। ফলে চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীত কম পড়লেও দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকা ও অন্যান্য এলাকায় ঘন কুয়াশার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে ভোর ও সকালে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দৃশ্যমানতা কমে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে।

সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। এর ফলে এবার দেশে শীতের সময়কাল তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে শীতের তীব্রতা কম থাকলেও নদী অববাহিকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে।

অক্টোবরেই মৌসুমি বায়ুর বিদায়

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে পারে। এর পর ধীরে ধীরে আবহাওয়ায় শুষ্কতার প্রভাব বাড়বে। তবে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেই শীতের আমেজ শুরু হবে—এমন সম্ভাবনা কম।

অক্টোবরের প্রথমার্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমও অব্যাহত থাকতে পারে। ১ থেকে ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

১১ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাসের শেষভাগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপের সম্ভাবনা

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বঙ্গোপসাগরে ৩ থেকে ৫টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এ সময় দেশে ৪ থেকে ৬ দিন বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে শীতের আগে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আবহাওয়ার আচরণে বেশ কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

এল নিনোর প্রভাব পড়তে পারে শীতেও

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো বর্তমানে সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থায় রয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে বছরের শেষ দিকে খুব শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এল নিনো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে শীত মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে এল নিনোর প্রভাবকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিসেম্বরেও থাকতে পারে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

শীত তুলনামূলক কম হলেও একেবারেই শৈত্যপ্রবাহ থাকবে না—এমনটা নয়। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ১ থেকে ২টি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এ সময় কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের সময় কিছুদিন তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র শীত বিরাজ করার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ এবারের শীত হতে পারে তুলনামূলক উষ্ণ, কম তীব্র এবং স্বল্পস্থায়ী।

কুয়াশা বাড়লেও শীতের তীব্রতা কম থাকতে পারে

আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও কুয়াশার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও নিচু এলাকায় রাতের শেষভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে।

ফলে এবার শীতের অনুভূতি অনেকটা নির্ভর করবে দিনের তাপমাত্রা, রাতের তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা ও কুয়াশার ঘনত্বের ওপর। সামগ্রিক পূর্বাভাস বলছে, তীব্র শীতের বদলে কুয়াশাচ্ছন্ন ও তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়াই বেশি সময় বিরাজ করতে পারে।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের শেষভাগে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পরও দ্রুত শীত নামার সম্ভাবনা কম। এল নিনোর প্রভাব, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা এবং ঘন কুয়াশার প্রবণতার কারণে এবারের শীত হতে পারে গতানুগতিক শীতের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন।