মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৮:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বরিশালে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার বরগুনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ বরিশালে ওয়ার্ডের বরাদ্দকৃত সারের ডিলার বিক্রির অভিযোগ, কৃষকের ভোগান্তি ২৬ শর্তে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দীতে গণসমাবেশের অনুমতি: ডিএমপি আগৈলঝাড়ায় প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল জব্দ আর্জেন্টিনা ব্রাজিল নিয়ে চাঁদপুরে তর্ক গড়ালো খুন পর্যন্ত। বরিশালে লঞ্চ চলাচল শুরু হওয়ায় সাধারন যাত্রীদের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বরিশালে আ’লীগের কর্মসূচি ঘোষণা বরিশালে জমি লিখে না দেওয়ায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী গ্রেফতার সারাদেশে হাসপাতালে আরও ৩৬৬ ডেঙ্গুরোগী
করোনায় রাস্তায় মানুষ না থাকায় ভিক্ষা পাচ্ছেন না ভিক্ষুকরা

করোনায় রাস্তায় মানুষ না থাকায় ভিক্ষা পাচ্ছেন না ভিক্ষুকরা

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও বিস্তার লাভ করেছে। ইতোমধ্যে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। সঙ্গত কারণেই জনমনে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। যে যার মত পারছে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না ঘর থেকে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই রাস্তায় যান চলাচল ও মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। এই অবস্থায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। এদিকে রাস্তায় মানুষ না থাকায় ভিক্ষা না পওয়ায় ভিক্ষুকদেরও দুর্দিন।

রাজধানীর বিজয় স্বরণী মোড়। এখানে যানজোটে ভোগান্তি পোহায়নি এমন কাউকে পাওয়া যাবে না রাজধানীতে। তবে সেই চিরচেনা যানজোট এখন নেই। এই সড়ক এখন মানুষহীন। রাস্তায় কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল নেই। এমনকি ট্রাফিক পুলিশও নেই। গাড়িগুলো যে যার মত পারছে সাবধানে পার হয়ে যাচ্ছে।

তপ্ত রোদের মাঝে রাস্তার পাশে একটি বটগাছের নিচে বসে আছে একজন ট্রাফিক পুলিশ। এখানে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে বলেন, রাস্তায় তো খুব একটা গাড়ি নাই। মাঝে মাঝে যে কয়েকটি গাড়ি আসে তারা নিজেদের মত করে চলে যায়। সিগন্যালের প্রয়োজন হয় না।

একই বটগাছের নিচে দাড়িয়ে আছে ৯০ বছর ছুই ছুই এক বৃদ্ধা। তাকে আগেও দেখা যেত এখানে। ভিক্ষা করতেন তিনি। তবে দিনে নয়, রাতে। তিনি জানালেন, এখন রাতে খুব একটা গাড়ি থাকে না। থাকলেও গাড়ি থেমে থাকে না। যা আসে সব সাথে সাথে চলে যায়। রাতে রাতে ভিক্ষা না পেয়ে এখন এই ভর দুপুরবেলা ভিক্ষা করতে নামছি। কী দিন আইল ভিক্ষাও মিলে না।

করোনা ভাইরাসের বিষয়ে কিছু জানেন কি না? এমন প্রশ্নে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন এটা আবার কী?

এদিকে রিকশাচালকরাও যাত্রী না পেয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ রিকশার উপরেই ঘুমিয়ে পড়েছেন ভর দুপুরে।

রিকশাচালক রফিকুল জানালেন, এক সপ্তাহ ধরে খুব একটা যাত্রী পাচ্ছি না। আগে যেখানে দিনে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেত। এখন পাঁচশ টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে এই শহরে থাকা সম্ভব নয়। বাড়িতে প্রতি সপ্তায় টাকা না পাঠালে পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে মারা যাবে।

গাবতলি টু সদরঘাট চলাচল করে ৭ নম্বর বাস। যাত্রীতে সব সময় গিজ গিজ করে। তবে এখন একদম ফাকা। মিরপুর রোডে কথা হয় চালক আব্বাসের সাথে। তিনি জানান, সকাল থেকে সিরিয়াল পাই নাই। দুপুরে সিরিয়াল পেলাম। গাবতলী থেকে এই পর্যন্ত আসতে একবারের জন্যেও সব সিট ভরে নাই। যাত্রী না থাকায় এখানে দাঁড়িয়ে আছি। সদরঘাট পর্যন্ত যেতে যেতে তেলের পয়সা উঠে কি না সন্দেহ আছে। যদি যাত্রী না পাই তবে আজকে আর ট্রিপ দিব না। লস করে তো আর চালানো যায় না।

যারা সংবাদমাধ্যম বা বিশ্বের খবরাখবর তেমন রাখেন না, তাদের মধ্যে এ ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা কম। আর স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা তো আরও কম। খেটে খাওয়া অনেকেই হাত না ধুয়েই খেতে বসে যান। খাওয়া শেষে কিছু একটা দিয়ে হাত মুছেই খালাস। তাদের একেবারে চোখ আঙুল দিয়ে করোনাভাইরাসের সচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক করা দরকার।

তবে মধ্যেবিত্ত বা উচ্চবিত্তদের মাঝে এই ভাইরাস নিয়ে উচ্চবাচ্চ বেশি। উচ্চবিত্তদের মধ্যে একটা শ্রেণি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও নিষেদ্ধাক্কার ফলে যেতে পারছে না। তবে মধ্যে বিত্তদের জরুরি পরিস্তিতির মধ্যে নিজেদের পেট পুজা কিভাবে সে চিন্তায় বেশি ব্যস্ত।

গুলশান, বনানী, উত্তরা নিকেতন এলাকায় গত কয়েক দিনে সুপারশপে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। যে যা পারছে নিজেদের মত মজুদ করছে। বিশেষ করে চাল ডাল তেল মাছ ও সবজির মত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেশি।

উত্তরার বাসিন্দা জুয়েল জানান, এখানকার বাজারগুলো প্রায় ফাকা। অনেকেই কাঁচামাল না থাকায় দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তবে সুপারশপগুলো চালু আছে। সেখানে এখনো কিছু কিছু জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। তবে চালের চাহিদা বেশি।

ধানমন্ডির জিগাতলার কাঁচাবারে কথা হয় সবজি বিক্রেতা কামালের সাথে। তিনি জানান, ভোরে কারওয়ানবাজারে সবজি কিনতে গিয়ে দাম বেশি বেশি চেয়েছে। এছাড়াও চাহিদা অনুযায়ি সবজিও কম পেয়েছি। যা এনেছি তা সকালেই শেষ হয়ে যাবে। বিকাল পর্যন্ত থাকবে বলে মনে হয় না।

এখন পর্যস্ত বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি রোগে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও ১৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হওয়া খবর পাওয়া গেছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




আমাদের ভিজিটর

  • 207,614 জন ভিজিট করেছেন
© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby