বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

করোনার সুযোগে হ্যাকাররা ছড়াচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাস

করোনার সুযোগে হ্যাকাররা ছড়াচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাস

দেশে দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররাও ছড়িয়ে দিচ্ছে আতঙ্ক, বিভ্রান্তি আর সেই সাথে কম্পিউটার ভাইরাস। করোনাভাইরাস সংবাদ শিরোনামে পরিণত হওয়ার পর সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এধরনের কিছু ইমেইল ফিশিং ষড়যন্ত্র শনাক্ত করেছে। বিবিসিও এগুলো এখন পরীক্ষা করে দেখছে।

করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে সাইবার অপরাধীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শত শত ভুয়া ইমেইল ছাড়ছে এবং নিরীহ মানুষের কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ইমেইল ফিশিং নতুন কোন ঘটনা নয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন কোভিড-১৯-এর সাথে সম্পর্কিত যেসব ভুয়া ইমেইল তারা দেখেছেন সেগুলো অত্যাধুনিক মানের। এসব ইমেইলে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ান, জাপানি এবং তুর্কী ভাষা ব্যাবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধীরা পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, ইনস্যুরেন্স, বিনোদন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় ব্যবহার করছে।

প্রুফপয়েন্ট নামে সাইবার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছড়িয়ে পড়া কিছু ইমেইল দেখে সন্দেহ করেন। এতে রহস্যজনক এক ডাক্তার লিখেছেন, তার কাছে কোরনোভাইরাসের ভ্যাকসিন রয়েছে, যে খবরটি চীনা এবং ব্রিটিশ সরকার এখন ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে।

প্রুফপয়েন্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এ নিয়ে বিশদ জানতে যারা ঐ ইমেইলে ক্লিক করেছেন তাদের একটি ডকুসাইন পেজে নিয়ে যাওয়া হয় যেটি দেখতে আসল।

আসলে সেটি ছিল সাইবার অপরাধীদের তৈরি একটি ওয়েবপেজ যেখান থেকে মানুষের অ্যাকাউন্ট নেম আর পাসওয়ার্ড চুরি করা হয়। সেই নাম-ধাম ব্যবহার করে তারা মানুষের অন্যান্য অ্যাকাউন্টও হ্যাক করে।

প্রুফপয়েন্ট বলছ, তারা এমন প্রমাণও দেখেছে যেখানে ধাপে ধাপে এরকম দুই লক্ষ ইমেইল ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রুফপয়েন্ট-এর কর্মকর্তা শেরড ডিগ্রিপো বলছেন, ‘আমরা দেখেছি একনাগাড়ে ৩৫ দিন ধরে এইরকম ইমেইল বাইরে ছাড়া হয়েছে। প্রথমে শুরু হয়েছিল দিনে একটা করে ইমেইল, এখন প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি এধরনের ফিশিং মেইল ছাড়া হচ্ছে।’

কোন ইমেইলের মধ্যে কোন ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া থাকলে সেটা পরীক্ষা করার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে কার্সারটি ঐ লিংকের ওপর নিয়ে নাড়াচাড়া করলেই প্রকৃত ওয়েবসাইটের লিংকটি দেখা যাবে।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: আপনার জন্য পরামর্শ’

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার সময় থেকেই হ্যাকাররা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে আসছে। এবং লোকজনকে নানা ধরনের ইমেইল পাঠাচ্ছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানান, এধরনের ইমেইল যারা ডাউনলোড করেন তারা নিজের অজান্তেই হ্যাকারদের দেয়া কম্পিউটার ভাইরাস ডাউনলোড করেন। এ ধরনের ইমেইলে হ্যাকাররা সাধারণত গোপনে এজেন্ট টেসলা কি-লগার সফটওয়্যার ঢুকিয়ে রাখে।

প্রুফপয়েন্ট-এর কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, কি-লগারটি ডাউনলোড করার পর হ্যাকাররা আপনার প্রতিটি কি-স্ট্রোক রেকর্ড করে রাখতে পারবে। এবং এগুলো ব্যবহার করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য জেনে যাবে।

এর হাত থেকে বাঁচতে এধরনের ইমেইল মোটেই খুলে দেখবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আপনাকে কেন ইমেইল পাঠাবে, সেটাও আপনাকে ভেবে দেখতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby