শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

করোনা সারাবে গোবর আর গোমূত্র!

করোনা সারাবে গোবর আর গোমূত্র!

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে গোটা বিশ্ব। ঠিক সেই সময় সবাইকে হতবাক করে দিয়ে এই ভাইরাস নিরাময়ের দাওয়াই বাতলালেন আসাম রাজ্যর বিজেপি বিধায়ক সুমন হরিপ্রিয়া।

তিনি নামের বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘গোমূত্র’ও ‘গোবর’ করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও দাবি করেন গরুর এই দুই বর্জ ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ নিরাময়েও সহায়ক ভূমিকা নেয়।

গোমূত্র আর গোবরের গুণাবলী বর্ণনা করে আসামের বিধায়ক হরিপ্রিয়া বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, গোরব খুবই উপকারি ৷ এমনকি গোমূত্রও উপকারি ৷ কোনও এলাকা শুদ্ধিকরণের জন্য গোমূত্র ব্যবহার করা হয় ৷ তাই আমার মনে হয় করোনা ভাইরাস সারাতে এগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে৷’

সোমবার আসামের বিধানসভার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বাংলাদেশে গবাদিপশু পাচার সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। সেই সময়েই ওই চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসেন বিজেপি বিধায়ক সুমন হরিপ্রিয়া। তিনি বলেন, ভারত থেকে গরু পাচার করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর এইভাবেই সেদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে গরু পাচার নিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি গো মাংস পাচার করা হয় ৷ আর সেটির একমাত্র কারণ ভারত থেকে গরু পাচার ৷ এই সমস্ত গরু আমাদের গরু। কংগ্রেস এতদিন ক্ষমতায় থেকেও যে বিষয়টি একবারও ভেবে দেখেনি।’

তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রবণতা কমেছে বলে জানান তিনি। এসময় তিনি বাংলাদেশে গরু পাচার রোধে আরও শক্ত ভূমিকা পালন করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি আসামের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাজ্যের গবাদি পশু বাজারের তদারকি করতে বলেন কারণ তিনি মনে করেন যে “ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবৈধ বাণিজ্য চালাচ্ছে। পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।’

তবে গরু পাচারের কথা বলতে বলতে ওই বিজেপি বিধায়ক যেভাবে গোমূত্র ও গোবরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকানো সম্ভব বলে আশ্চর্য দাবি করেন তাতে অসম বিধানসভায় উপস্থিত অন্যান্য বিধায়করাও হতবাক হয়ে যান।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে ভারতের হিন্দু মহাসভার সভাপতি স্বামী চক্রপানি মহারাজও বলেন, গরুর মূত্র ও গোবর গ্রহণ করলে করোনাভাইরাসের প্রভাব বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ‘ওঁম নমঃ শিবায়’ বলবেন এবং গোবর গায়ে মাখবেন তিনি এই মারণ রোগ থেকে রক্ষা পাবেন।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে ভারতে প্রায় ২৫,৭৩৮ জনের উপর কড়া নজরদারি চলছে। ৩৭ জনের শরীরে বর্তমানে COVID-19 লক্ষণ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দিল্লি ও তেলেঙ্গানায়ও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে বলে খবর।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby