
বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী এলাকায় ‘এস স্টার ব্রিক ফিল্ড’ রক্ষা এবং নদী ভাঙন রোধে বাঁধ দেওয়ার নামে এক কথিত মিডিয়া কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে সংগৃহীত করে একটি ‘কথিত’ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়, যার নেপথ্যে ছিল মূলত এস স্টার ইটভাটা মালিক আবু সালেহর স্বার্থ রক্ষা এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।
ঘটনার নেপথ্যে যা জানা গেছে:
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক কথিত মিডিয়া কর্মী ওই ইটভাটাকে প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচাতে এবং নদী তীরের অবৈধ দখল বজায় রাখতে নদী তীরের মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। নদী ভাঙন রোধে সরকারি বাঁধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে ও ইটভাটা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কয়েক দফায় অর্থ আদায় করেছেন।
আর্থিক লেনদেন: অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটাটি টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে ওই প্রতারক চক্র ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে এবং স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করে প্রায় ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
কথিত মানববন্ধন: সাধারণ গ্রামবাসীর দাবি, তাদের নদী ভাঙন রোধের আন্দোলনের কথা বলে মানববন্ধনে আনা হলেও মূলত সেটি ছিল অবৈধ এস স্টার ইটভাটার পক্ষে একটি সাজানো নাটক।
প্রতারণার কৌশল: পানি উন্নয়ন বোর্ডের দোহাই দিয়ে এবং বড় অংকের প্রজেক্ট পাসের আশ্বাস দিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
শফিক নামের এক ব্যক্তি জানান, “আমাদের বলা হয়েছিল নদী ভাঙন ঠেকাতে সমাবেশ হবে। কিন্তু পরে শুনলাম এটা ইটভাটা মালিককে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ওই ব্যক্তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি: এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগীরা এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

