ঢাকাশনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চরম দুর্ভোগে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বাস নেই, বাধ্য হয়ে মাহিন্দ্রা-পিকআপে ঢাকামুখী যাত্রা

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চরম দুর্ভোগে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বাস নেই, বাধ্য হয়ে মাহিন্দ্রা-পিকআপে ঢাকামুখী যাত্রা।

 

ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। তেলের সংকটের কারণে বরিশাল-ঢাকা রুটে বাস চলাচল কমে যাওয়ায় শুক্রবার (২৭শে মার্চ) বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক যাত্রী বাস পাননি। বাধ্য হয়ে কেউ মাহিন্দ্রা, কেউ পিকআপ, আবার কেউ ভেঙে ভেঙে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন।

শনিবার রাজধানীতে অধিকাংশ অফিস-কারখানা খোলার কথা থাকায় শুক্রবার থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বাড়ে। কিন্তু বাসের সংখ্যা কম থাকায় দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। টার্মিনাল এলাকায় কয়েকশ মানুষকে বাসের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে।

ঢাকার উত্তরার একটি পোশাক কারখানার কর্মী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ঈদের ছুটি কাটাতে লঞ্চে করে গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে এসেছিলেন। কিন্তু ফেরার সময় লঞ্চে উঠতে না পেরে বাস টার্মিনালে এসে সারাদিন অপেক্ষা করেও বাস পাননি।

তিনি বলেন, সকাল থেকে নথুল্লাবাদে বসে আছি। বিকাল হয়ে গেছে, এখনো বাস পাইনি। পরিবার নিয়ে ভেঙে ভেঙে যাওয়াও সম্ভব না। আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করব, বাস না পেলে আবার লঞ্চঘাটে যাব।

একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রবীন রহমান বলেন, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রা গাড়িতে রওনা দিয়েছেন। “আজ যেভাবেই হোক ঢাকায় যেতে হবে। তাই ঝুঁকি নিয়েই মাহিন্দ্রায় উঠেছি। গৌরনদী পর্যন্ত যাব, তারপর আবার অন্য গাড়ি খুঁজব। ঝুঁকি আছে, কিন্তু উপায় নেই।”

বরগুনার বেতাগী থেকে আসা আবুল ফজলে রাব্বী বলেন, তাদের এলাকায় ঢাকাগামী কোনো পরিবহন না পেয়ে বরিশালে এসেছেন। কিন্তু এখানেও বাস না পেয়ে অনেককে হেঁটে বা ছোট যানবাহনে করে রওনা দিতে দেখা গেছে।

বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকার মুরতজা রহমান বলেন, ঈদে অনেক দিন ছুটি কাটিয়েছি। এখন যে করেই হোক ঢাকায় ফিরতে হবে। ভাড়া বেশি লাগলেও সমস্যা নেই, শুধু ঢাকায় পৌঁছাতে চাই। অনেককে দেখছি পিকআপ বা কাভার্ড ভ্যানে করেও ঢাকার দিকে যাচ্ছে।

এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেল সংকটের কারণে অনেক বাস বরিশালে আসতে পারছে না।

বিএমএফ পরিবহনের চালক মো. সুমন বলেন, ঈদের পর আজকে টার্মিনালে সবচেয়ে বেশি যাত্রী। যাত্রীদের চাপে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। অনেক যাত্রী বাসের ছাদে উঠতেও চেষ্টা করছে।

খান পরিবহনের সুপারভাইজার রহিম শেখ বলেন, অনেক বাস বৃহস্পতিবার ঢাকায় গেছে, কিন্তু তেল সংকটের কারণে বরিশালে ফিরে আসেনি। কোনো পাম্প থেকেই ২০-২৫ লিটারের বেশি তেল দিচ্ছে না। এই তেল দিয়ে ঢাকা-বরিশাল আপডাউন সম্ভব না। তাই অনেক বাস আর বরিশালে আসেনি।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের কার্যনির্বাহী সদস্য ফয়সাল আহম্মেদ নূর জানান, যাত্রীচাপ সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ রুটের কিছু বাস ঢাকায় যাত্রী পরিবহনে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। মানবিক দিক বিবেচনা করে লোকাল রুটের বাস ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় অনেক বাস ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ তেলের সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, সব পরিবহনকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ট্যাংকি ফুল করতে চাওয়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়।

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে পরিবহন সংকট, তেল সমস্যা ও যানজট সব মিলিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।