শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

চীনে আবার করোনার থাবা

চীনে আবার করোনার থাবা

চীনে আবারও হু হু করে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

করোনা রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোর ওপর যেমন চাপ পড়েছে তেমনিই মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে শ্মশানগুলোতে টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বেইজিং, চংকিং ও গুয়াংঝৌ শহরের শ্মশানগুলোয় মঙ্গলবার সারি সারি মৃতদেহ দেখা গেছে। শ্মশানগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ সময়ের চেয়ে তারা এখন অনেক বেশি ব্যস্ত সময় পার করছে। চীনে এখন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স ও হিন্দুস্তান টাইমসের।

২০১৯ সালের শেষ দিকে করোনাভাইরাস মহামারি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৬৬ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। চীনে মৃত্যু বা সংক্রমণের সংখ্যা একেবারেই কম ছিল।

মহামারি করোনা ঠেকাতে ৩ বছর ধরে চীন নজিরবিহীনভাবে লকডাউন, কোয়ারেন্টিন ও গণপরীক্ষা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে চীনের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হলে কর্তৃপক্ষ এসব বিধিনিষেধের অনেকটাই তুলে নেয়।

সিদ্ধান্তটি যে যথাযথ ছিল না-তা কয়েকদিনের মধ্যেই টের পাওয়া গেছে। সেখানে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কয়েকদিনে চীনের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলো করোনা রোগীতে ভরে গেছে। পাশাপাশি সৎকারকেন্দ্রে লাশের স্তূপ জমেছে।

ADVERTISEMENT

চীনের মহামারি বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এরিক ফেইগল-ডিং জানান, চীনের হাসপাতালগুলো এখন কোভিড রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে চীনের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষের কোভিড সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। স্পষ্ট কোনো সংখ্যা জানা না গেলেও বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হচ্ছে, চীন কোভিডে মৃতদের জায়গা সংকুলান করতে পারছে না। হঠাৎ করেই এত মৃত্যুর স্রোত মোকাবিলা করতে খেই হারিয়ে ফেলছে বিভিন্ন প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। তিন কোটি মানুষের শহর চংকিং কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে, এত মৃতদেহ রাখার জায়গা তাদের নেই। এছাড়া তারা ওষুধ সংকটেও পড়েছে।

মঙ্গলবার চীন জানিয়েছে, তারা কোভিড-১৯ মৃত্যুর ক্ষেত্রে সংজ্ঞা নতুন করে সাজিয়েছে। এর ফলে কোভিডে মৃত্যু হিসাবে শুধু তাদেরই ধরা হবে যারা কোভিড পজিটিভ ছিলেন এবং শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন।

কোভিডে অসুস্থ হয়ে হার্ট অ্যাটাক বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত অবস্থায় মারা গেলে সেটিকে কোভিডে মৃত্যু বলে গণ্য করা হবে না। চীনে কোভিড সংক্রমণ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে মৃত্যুর হারও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। তবে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই কোভিডে মৃত্যুর সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছে চীন। কারণ চীনের বিভিন্ন অংশে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে অনেকে মারা যাচ্ছেন। কিন্তু ক্যাটাগরির ভিন্নতায় ফেলে চীন এ সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।

চীনের হাসপাতাল ও সৎকার কেন্দ্রগুলো উপচে পড়া ভিড় থাকলেও সরকার এ মাসে কোভিডে মাত্র ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। অথচ চংকিংয়ের একটি সৎকারকেন্দ্রের কর্মীর দাবি-মৃতদেহ রাখার জায়গা ফুরিয়ে গেছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি মৃতদেহ আসছে। কিন্তু সেগুলো রাখার জন্য আমাদের কাছে কোনো হিমাগার নেই।

অন্যদিকে গুয়াংজু প্রদেশের দক্ষিণ মেগাপোলিসে, জেংচেং জেলার সৎকারকেন্দ্রের এক কর্মচারী জানান, তারা প্রতিদিন ৩০টিরও বেশি মৃতদেহ দাহ করছেন। শহরের আরেকটি সৎকারকেন্দ্র থেকেও একই বার্তা দিয়ে বলা হয়, সৎকারকাজে তারা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০টির বেশি মৃতদেহ সৎকার করতে হচ্ছে। তারা দাবি করেন, পুরো গুয়াংজুর চিত্র একই রকম। গুয়াংজুর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর শেনিয়াংয়ের একটি বেসরকারি সৎকারকেন্দ্রের এক কর্মী জানান, তাদের কাছে বেশি বেশি মৃতদেহ আসায় সেগুলো ৫ দিনের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby