ঢাকাবুধবার , ৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষায় পাশের আশায় শিক্ষককে আব্বু ডেকে আবেদনপত্র লিখলেন  ছাত্রী 

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৮, ২০২৬ ১:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৯১

নিউজ ডেস্ক :: পরীক্ষায় পাশের আশায় শিক্ষককে আব্বু ডেকে আবেদনপত্র লিখলেন  ছাত্রী

পরীক্ষায় পাসের আশায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে নম্বর দেওয়ার আবেদন লিখেছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। উত্তরপত্রে লেখা সেই আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষার মান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নিজের ফেসবুক আইডিতে শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রের ছবি প্রকাশ করলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া উত্তরপত্রে দেখা যায়, প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থী ভুল বানান ও অসংলগ্ন বাক্যে নানা কথা লিখেছে। একপর্যায়ে নম্বর পাওয়ার আশায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে পাস করিয়ে দেওয়ার অনুরোধও জানায়।

উত্তরপত্রে লেখা :

“শিক্ষার্থী তার পরীক্ষার খাতায় ভুল-শুদ্ধ বানানে লিখেছেন- স্যার, সত্যি কথা বলতে আজকে শিখবো; কালকে শিখবো এরকম করে সময় চলে গেছে। কিছু শেখা হয়নি। তাই পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখতে পারলাম না। বলছিলাম কী স্যার, আপনাকে আব্বু ডাকলাম। দয়া করে আমাকে কয়টা নাম্বার দিন। আব্বু, আব্বু, আব্বু … আব্বু, আমাকে কয়টা নাম্বার দিন।”

পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই শিক্ষার্থীর ভাষাগত ও শিক্ষাগত দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তি বিশেষের ব্যর্থতা নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন

উত্তরপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতার একটি চিত্র তুলে ধরতেই উত্তরপত্রটি শেয়ার করেছি। কাউকে হেয় বা বিব্রত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, কোনো একটি উত্তরপত্রকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বিচার করা সমীচীন নয়। তবে ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি, পাঠদানের কার্যকারিতা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। তারা শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া-লেখার দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হাতিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ. ন. ম. হাসান বলেন, ‘একটি উত্তরপত্র দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে এমন ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উত্তরপত্রের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া-লেখা ও ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।