
নিউজ ডেস্ক :: দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের উন্নয়নবঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (বর্ধিত এলাকা) বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে শুরু হয়েছে সাড়ে ১০ কোটি টাকার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। সড়ক সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
ই-জিপি (e-GP) টেন্ডারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলতি বছরের জুনে এই কাজের দরপত্র পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘নূসরাত বিল্ডার্স’। আর সেপ্টেম্বর মাস থেকেই পুরানপাড়া, ছোট বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে এই কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
যেসব এলাকায় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে:
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মেইন রোড থেকে পাওয়ার স্টেশন রোড হয়ে পুরানপাড়া রোড (৬০ মিটার পাইলিং সহ), খোকন কবিরাজ বাড়ি রোড, টেক্সটাইল বটতলা থেকে হজরত বেল্লাল জামে মসজিদ (১০ মিটার পাইলিং সহ), মাঝিবাড়ি রোড (৬০ মিটার পাইলিং সহ), কাউনিয়া হাউজিং মেইন রোড, ফারুক মিরাবাড়ি (১০ মিটার পাইলিং সহ), মোতাহার স্কুল থেকে পূর্ব আন্ধির দিঘীর পার (৫০ মিটার পাইলিং সহ) এবং আন্ধিরপাড়া দিঘী থেকে আমিরগঞ্জ মেইন রোড পর্যন্ত (১২০ মিটার পাইলিং সহ) মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পাইলিংয়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ:
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদে রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে নতুন করে কাজ শুরু হলেও, পুরাতন সড়ক থেকে তুলে নেওয়া পুরনো ইট দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা নিয়ে স্থানীয় কিছু বাসিন্দার মধ্যে কিছুটা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে কাজের পরিধি আরও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সাব-ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা। এ বিষয়ে বিসিসি কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
পুরানপাড়ার বাসিন্দা জুয়েল ও তাঁর স্ত্রী জানান, এই অবহেলিত এলাকায় বর্তমান প্রশাসনের ছোঁয়ায় বড় অংকের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, অতীতের তুলনায় এই ওয়ার্ডে বরাদ্দ ও উন্নয়নের ছোঁয়া এখন দৃশ্যমান।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও গুণগত মান রক্ষা:
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিসিসির প্রশাসক নিজে নিয়মিত সরেজমিন কাজের তদারকি করছেন। কাজের মান শতভাগ বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বদ্ধপরিকর।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, “জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজের গুণগত মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাদের টিম নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”
দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের গতিশীল পদক্ষেপে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সম্প্রতি প্রশাসক সরেজমিন পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।

