
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ফরিদপুর-ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনর কাজ আটকে আছে ৮ বছর।
ফরিদপুরের ভাঙা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। তবে একাধিক দফায় প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো শেষ হয়নি ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চলতি বছরেও দক্ষিণাঞ্চলের বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা নয়, বরং ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত অংশে ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটার মহাসড়ক বর্তমানে ২৪ ফুট প্রশস্ত। যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ ও দুর্ঘটনা কমাতে এ মহাসড়ককে চারটি মূল লেন এবং দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, প্রথম ধাপে ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত অংশে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। বরিশাল অংশে ইতোমধ্যে ২৫ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গৌরনদী ও উজিরপুরের কাজ শেষ করে বর্তমানে বাবুগঞ্জ ও বানারীপাড়া এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছে।
তার ভাষ্য, ভূমি অধিগ্রহণের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের মতো একাধিক সংস্থা জড়িত থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। বরিশাল অংশের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।
‘ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে মহাসড়কের নকশা চূড়ান্ত করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। আপাতত ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত অংশকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, কারণ এ রুটে যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি। যোগ করেন তিনি।
সওজের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেছেন,২০২৬ সালের জুনের মধ্যে পুরো ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করা সম্ভব হবে না বলেই মনে হচ্ছে। এ কারণে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত মোট ১৫টি ভূমি অধিগ্রহণ মামলা (এলএ কেস) রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির কাজ এখনো বাকি। সব মিলিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করতে আরও সময় লাগবে। পাশাপাশি ভূমির বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভাঙা-বরিশাল অংশের সিভিল কাজ শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার মহাসড়কের জন্য নতুন প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তবে এ সিদ্ধান্তে হতাশ দক্ষিণাঞ্চলের সচেতন মহল। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, কুয়াকাটা পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসত। প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানোয় নির্মাণকাজও পিছিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেছেন, বর্তমানে এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ছয় লেন মহাসড়ক নির্মিত হলে দুর্ঘটনা কমবে, পায়রা বন্দরের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হবে এবং ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা।’
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত বাস্তবায়িত হবে ভাঙা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক প্রকল্প।

