ঢাকাFriday , 31 July 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দরিদ্র তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বরিশাল বিএম কলেজে ছাত্রদল নেত্রী বিরুদ্ধে

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারি সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেত্রী ফাহমিদা জুইয়ের বিরুদ্ধে। নিজ বিভাগের অভাবী শিক্ষার্থীদের ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে কলেজ প্রশাসন থেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ করার ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেত্রী বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা জুই সম্প্রতি নিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে দরিদ্র তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার কথা বলে ফরম বিতরণ করেন। শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করে তার কাছে জমা দিলে তিনি সেগুলো কলেজ প্রশাসনে জমা দেন। পরবর্তীতে প্রশাসন থেকে ওই আবেদনকারীদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা ছাড় করা হলেও তা শিক্ষার্থীদের না দিয়ে তিনি নিজে রেখে দেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জানানো হয় যে তাদের আবেদনের বিপরীতে কোনো টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি এই অনিয়মের বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে এলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

 

​ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাধ্য হয়েই তারা ওই সহায়তার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন যে তাদের নাম ভেঙে অর্থ উত্তোলন করা হলেও তাদের কাছে তা পৌঁছায়নি।

 

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফাহমিদা জুইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এগুলো আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ। আমার বিরোধী একটি রাজনৈতিক চক্র আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। দ্রুতই এ বিষয়ে সত্য ঘটনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সবার সামনে উপস্থাপন করব।”

 

 

তবে এ বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বর্তমানে বিএম কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন মাত্র দুজন—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এর বাইরে বর্তমানে কোনো পদে প্রতিনিধি নেই। বিএম কলেজ ছাত্রদলের কোনো কর্মী যদি তার নিজ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার জন্য কোনো অন্যায় করে থাকে, তবে তার দায়ভার সংগঠন বহন করবে না।”

 

​ঘটনার সত্যতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। সকালে ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসে অভিযোগ করলে আমি কলেজের হিসাব শাখায় গিয়ে তথ্যের সত্যতা ও প্রমাণ পেয়েছি। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়কে এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আমরা স্যারকে আশ্বস্ত করেছি, কোনো অন্যায়কারীর পক্ষে আমরা দাঁড়াব না। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আমি হাইকমান্ড ও মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করব। খুব শিগগিরই হয়ত কলেজের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে, সেক্ষেত্রে কোনো অন্যায়কারীকে উক্ত কমিটিতে মূল্যায়ন করা হবে না।”

 

​এদিকে ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা কলেজের দরিদ্র তহবিল বণ্টন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, দরিদ্র তহবিলের টাকা দিয়ে কলেজ প্রশাসন মূলত রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করে। তারা দাবি জানান, দরিদ্র তহবিলের অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকৃতপক্ষে কারা এই তহবিলের টাকা পাচ্ছে, তাদের নাম ও পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ বা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিতে হবে।

 

​সার্বিক বিষয়ে বিএম কলেজ সহযোগী অধ্যাপক মো: রাশেদ খান শাহীন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন ফরম জমা দেওয়া এবং সরাসরি অর্থ গ্রহণ করার কথা। শিক্ষার্থীরা কেন কোনো তৃতীয় পক্ষের শরণাপন্ন হলো, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা যদি কলেজ প্রশাসনের নিকট এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করে, তবে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।