ঢাকাMonday , 12 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে গৃহবধূকে পিটিয়ে হ ত্যা, স্বামী ও দেবর আটক

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী ও দেবর আটক

বরিশালের বাবুগঞ্জে দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী সোহেল খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোহেল ও তাঁর ছোট ভাই তানভীর খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ঐশী উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চরসাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। তাঁর স্বামী সোহেল খান ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাদের খানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে পারিবারিকভাবে সোহেল ও ঐশীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ঐশীকে মারধর করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন দিন আগে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সোহেল লোহার রড দিয়ে ঐশীর মাথা ও কপালে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে চোখেও ঘুষি মারা হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার পর তিন দিন ধরে ঐশীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। রোববার দিবাগত রাতে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হলে সোমবার সকালে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার তূর্য্য অধিকারী জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সোহেল ও তাঁর ভাই তানভীর ঐশীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাঁর মাথা, কপাল ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি বাবুগঞ্জ থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সোহেল ও তানভীরকে আটক করে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম বলেন, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মাথা, কপাল ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেল খান ও তাঁর ছোট ভাই তানভীর খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা