ঢাকাWednesday , 28 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে চাহিদার ৩০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের কবলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ 

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭৭

নিজস্ব :: বরিশালে চাহিদার ৩০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের কবলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

দুর্গাপূজার পরে লক্ষ্মীপূজায় আলোর বন্যা মিলিয়ে যাবার সাথেই বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতিও ভয়াবহ রূপে ফিরে এসেছে।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালের পর থেকে ক্রমান্বয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে এক পর্যায়ে চাহিদার ৭০ ভাগ পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়। দুপুর ২টার পরে ভয়াবহ এ বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকটা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এমনকি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ এ অঞ্চলের সবগুলো সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ সরবরাহ দফায় দফায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক জরুরি অস্ত্রোপচারেও মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির রেশ ধরে তালতলীতে আরএমসিএল’র সাড়ে ৩শ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আকস্মিকভাবেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে ঐ উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ হলেও পায়রা ও ভোলাসহ বরিশাল অঞ্চল থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে এ অঞ্চলের সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক পর্যায়ে সরবরাহ ২শ মেগাওয়াটেরও নিচে নামিয়ে আনা হয়। ফলে এ অঞ্চলের শিল্প উৎপাদন প্রায় সম্পূর্ণই বন্ধ হয়ে যাবার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।

 

সদ্য সমাপ্ত দুটি পূজা-পার্বণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিপূর্ণ নির্বিঘ্ন থাকলেও রোববার লক্ষ্মীপূজা সম্পন্নের পরে সোমবার থেকেই বরিশাল অঞ্চলে আবার লোডশেডিং ফিরে এসেছে। এ অঞ্চলে ডে-পিক ও নাইট-পিক আওয়ারে সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ সাড়ে ৬শ মেগাওয়াটে নেমে এলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে চাহিদার মাত্র ৩০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় জাতীয় গ্রিড থেকে। দুপুর ২টার পরে বরিশাল মহানগরীসহ ঝালকাঠী জেলা সদরে প্রায় ১শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মাত্র ২৮ মেগাওয়াটে হ্রাস করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল মহানগরীসহ সন্নিহিত এলাকায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৭০ মেগাওয়াটেরও কম।

 

দুপুরের দুঃসহ গরমে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, হাসপাতালগুলোর বেডে অনেক মুমূর্ষু রোগী রোগ যন্ত্রণায় কাতরালেও বিদ্যুৎ তাদের ক্ষমা করেনি।

 

পরিস্থিতি সামলে ৪টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার ৬০ ভাগে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। রাতের মধ্যেই তালতলীর সাড়ে ৩শ মেগাওয়াটের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফেরার কথা রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে এ অঞ্চল থেকে আরো সাড়ে ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলেও বরিশাল অঞ্চলে সরবরাহ কতটা উন্নতি ঘটবে, তা বলতে পারেননি সরবরাহ ও বিতরণ কোম্পানি ওজোপাডিকো, আরইবি এবং সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি’র দায়িত্বশীল মহল। তবে রাতভরই সমগ্র বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি অব্যাহত থাকার বিষয়ে অলিখিত বার্তা দিয়ে রেখেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র।

 

বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫শ মেগাওয়াটেরও কম।