ঢাকারবিবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে জ্বালানি সংকট ও দখলমুক্ত নগরীর দাবিতে ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১১৭

 নজস্ব প্রতিবেদক ::  ভোজ্য তেল ও জ্বালানি সংকট নিরসন, সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দখলমুক্ত নগরী গঠনের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সম্মুখে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ক্যাব ইয়ুথ ফোরাম অব বরিশাল।মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। ক্যাব ইয়ুথ ফোরাম অব বরিশালের সদস্য দিগন্ত রায় দিপ্তের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোজ্য তেল, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাজারে অস্থিরতা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিসমূহের মধ্যে ছিল—ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, স্ট্রিট ফুডকে স্বাস্থ্যসম্মত করতে কার্যকর নজরদারি জোরদার, বিসিসির আওতাধীন হোটেলগুলোতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, বাজারে সিন্ডিকেট প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অবৈধ অটো ও রিকশা নিয়ন্ত্রণসহ সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কারখানা বন্ধ করা। এসময়ে বরিশাল ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ দত্ত তার বক্তব্যে বলেন, “ভোজ্য তেল ও জ্বালানি সংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান। কিন্তু এ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। বিদ্যুৎ সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে এবং মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” ক্যাব ইয়ুথ ফোরাম অব বরিশালের আহ্বায়ক ও মানববন্ধনের সভাপতি মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয় বলেন,” বৈশ্বিক সংকটের কারণ দেখিয়ে বর্তমান জনগণকে নাভিশ্বাস পরিস্থিতির ভিতরে ফেলানো হয়েছে। ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তীব্রভাবে দেখা দেখা দিয়েছে। মুনাফাখোররা তারা অবৈধভাবে সিন্ডিকেট করে জনগণের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বর্তমান তারেক রহমানের সরকারকে এগুলো রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ” বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নারী প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনকে ধন্যবাদ ও সতর্ক করে তিনি বলেন,” বর্তমান প্রশাসক নগরীর ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেছে, আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই কিন্তু বিগত প্রশাসক মো. রায়হান কাওসার উচ্ছেদ করে আবার এদের ৫০ টাকার বিনিময়ে বসিয়ে নগরবাসীর সাথে যে নাটক করেছে সে নাটক বিলকিস জাহান শিরিন করবে না- আমরা আশা রাখি। তাই তাকে অবৈধ হকারদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ নিশ্চিত করতে হবে।” অবৈধ দখলদারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ” শহরের নাগরিকরা হাজার হাজার টাকার ট্যাক্স দেয় এই অবৈধ দখলদারদের জন্য নয়, মুনাফাখোরদের জন্য নয়, অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য নয়। এরা কোনমতেই জনগণের জায়গা দখল করে ব্যবসায় করতে পারবে না। জনগণকেও এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। একই সাথে অসহায় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে।” জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,” ইয়ুথ ফোরামের একাধিক সদস্যরা জুলাই আগস্ট অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারিতে ছিল। আমরা এমন দেশ চাইনি যে দেশ হবে তখন দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘুষগ্রস্ত ও দখলযুক্ত। সিন্ডিকেট মুক্ত একটা বাংলাদেশ চেয়েছিলাম – যেখানে ভোক্তারা তাদের ন্যায্য মূল্যে পণ্য কিনবে কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বর্তমান সরকার যদি জনআকাঙ্ক্ষা নিশ্চিত করতে না পারে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা বাংলার জনগণ একদা নেবে।” মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল ক্যাবের কার্যনির্বাহী সদস্য এ্যাড. সুভাষ দাস নিতাই, কার্যনির্বাহী সদস্য এস. এম. আব্দুল্লাহ, ইয়ুথ ফোরাম অব বরিশালের অভিযান ও মনিটরিং বিষয়ক সম্পাদক মো. শিহাব আহমেদ, খাদ্য বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান আদ্রিয়ান, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ আসেম উর রিওন এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মো. আরিফ বিল্লাহ প্রমুখ। এসকল বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, “নগরীর ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে স্ট্রিট ফুডের মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।” তারা আরও বলেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার তদারকি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বাজারে নৈরাজ্য আরও বাড়বে।” মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।