ঢাকাশুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে থানায় হামলা ও ভাঙচুর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১৮

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১০, ২০২৬ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৩

বরিশালে থানায় হামলা ও ভাঙচুর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১৮

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। হামলায় অংশ নেওয়া কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, থানার হাজতখানায় থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির নিজেই দেয়ালে মাথা আঘাত করেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলের দিকে কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার সামনে জড়ো হয়ে হামলা চালায়। এ সময় থানায় ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনাও ঘটে।

হামলার সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন এবং মেহেদী হাসান চিকিৎসা নিয়েছেন।

অন্যদিকে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগম (৪৭)সহ অন্তত ছয়জন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন, অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগমের অভিযোগ, বিনা অপরাধে তাদের ছেলেকে আটক করে পুলিশ নির্যাতন করেছে। তাদের দাবি, ওই নির্যাতনের কারণেই রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ গুজব। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। থানার হাজতখানায় তিনি নিজেই দেয়ালে মাথা আঘাত করেছিলেন, যার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই আরও গ্রেপ্তার হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

ঘটনার পর আগৈলঝাড়া থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।