শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:০৭ অপরাহ্ন

বরিশালে মসজিদের মাইকে ডাকাত আতঙ্কের ঘোষণা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

বরিশালে মসজিদের মাইকে ডাকাত আতঙ্কের ঘোষণা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

মধ্যরাতে ডাকাত পরার খবরে এলাকাবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয় মসজিদের মাইকে।

এতে আতঙ্কে মঙ্গলবার রাতটি না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন বরিশাল নগরীর বাসিন্দারা। অনেকে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

যদিও মঙ্গলবার রাতে নগরজুড়ে কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। যে কারণে বিষয়টি গুজব বলে মনে করছেন বরিশালের জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আর তাই এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম বলেন, মসজিদ থেকে ওই ধরনের এলান (প্রচার) কারা দিয়েছে কি কারণে দিয়েছে সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কাউকে শনাক্ত করা গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে।

মেট্রো পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যারা ডাকাত আতঙ্কে গুজব ছড়িয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছি।

শুধু নগরেই নয়; আশপাশের জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক ছড়ানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কি ঘটেছে, কারা ঘটিয়েছে এবং এটা নিছক গুজব কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলক অন্য কেউ করেছে কিনা সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি এলাকা থেকে প্রথম ডাকাত আতঙ্কের উৎপত্তি হয়। এরপর বরিশাল নগরে রাত ২টা থেকে এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।

নগরের উত্তর প্রান্ত ধরে ধীরে ধীরে মসজিদের মাইকে একে একে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত ছড়ায়। যেখানে প্রায় সব এলাকার মসজিদের মাইকে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় ডাকাত পরার খবরে।

এ বিষয়ে নগরের মুসলিম গোরস্থান রোড জামে মসজিদের খাদেম আব্দুল হালিম বলেন, রাত ২টার দিকে কয়েকজন লোক মুখ ঢাকা অবস্থায় মসজিদের সামনে এসে ইমাম ও খাদেমকে ডাকাডাকি করে। একপর্যায়ে আমি দরজা না খুলে ডাকাডাকির কারণ জানতে চাই। তারা আমাকে জানায় ‘এলাকায় ডাকাত হানা দিয়েছে। আপনি মসজিদের মাইকে দ্রুত ঘোষণা দিন, এলাকাবাসীকে সতর্ক করুন। ’ কিন্তু আমি ঘোষণা না দিয়ে তাদের মসজিদের সভাপতির বাসায় গিয়ে অনুমতি আনতে বলি। কিছুক্ষণ জোরাজুরি করে চলে যায় তারা।

কাশিপুরের বাঘিয়া আল আমিন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নেছার উদ্দিন বলেন, অন্য মসজিদের মাইকে ডাকাত পরার খবর শুনে ঘুম ভেঙে যায়। পরবর্তীতে নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পরেন এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে আমি মাইকে সকলকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাই।

বিষয়টি তার ভুল ছিলো বলে অনুতাপও প্রকাশ করেন এই মুয়াজ্জিন।

জিয়া সড়ক জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. হেলাল বলেন, ডাকাত পরার খবর দিয়ে মধ্যরাতে এলাকার বেশ কয়েকজন লোক ফোন দেন। মাইকে সতর্ক হওয়ার ঘোষণা দিতে বলেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না বলেন, ওইরাতে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সবকটি মসজিদ থেকে মাইকিং হয়েছে এলাকায় ডাকাত পরেছে। পাশাপাশি ২২, ২৩, ১৪, ১৫, ২০ নম্বর ওয়ার্ডেও মসজিদ থেকেও মাইকিং হচ্ছিল। বিষয়টি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে মেয়রকে জানাই। তাৎক্ষণিক মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিই। কিন্তু ডাকাত পরার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, পরে মসজিদে লোক পাঠাই। সেখানে তালা দেওয়া শুনে হুজুরদের ফোন দিই। তারা ফোন ধরেনি। প্রশ্ন জাগলো, তাহলে মাইকিং করলো কারা? একই সময় এলাকার লোকজন রাস্তায় বের হয়ে আসছিল। কোথাও ডাকাত পরার খবরের সত্যতা পাইনি। ডাকাতের কোনোঅস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তির নগরী বরিশালের পরিবেশকে বিনষ্ট করতে কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারে। মানুষের মনকে অন্য দিকে ডাইভার্ট করে অন্য কোন বড় ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।

এদিকে শুধু বরিশাল নগরী নয় গত ২৮ নভেম্বর রাতে গৌরনদী ও ২৯ নভেম্বর রাতে মেহেন্দীগঞ্জে বিভিন্ন গ্রামে ডাকাত পড়েছে এমন খবর মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়।

এছাড়া জেলার উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, মেহেন্দীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনার রেশ ধরে নগর জুড়ে ভিত্তিহীন এমন আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby