ঢাকাTuesday , 22 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে মাদকের ‘হটস্পট’ কেডিসি প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১০ কেজি গাঁজা ও হাজার হাজার পিস ইয়াবা, ধ্বংসের পথে যুব সমাজ 

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে মাদকের ‘হটস্পট’ কেডিসি প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১০ কেজি গাঁজা ও হাজার হাজার পিস ইয়াবা, ধ্বংসের পথে যুব সমাজ।

 

বরিশাল নগরীতে মাদকের প্রধান ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কেডিসি কলোনি। এটি এখন মাদক চক্রের অন্যতম প্রধান ডিলার পয়েন্ট। নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান যতই জোরদার হোক না কেন, রহস্যজনক কারণে কেডিসির মাদকের বিস্তার কখনো নির্মূল হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য এবং স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় রাজনৈতিক নেতাকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে মাদক ব্যবসা নির্বিঘেœ চালানো হচ্ছে। ফলে মূল অপরাধীরা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেডিসি কলোনিতে পুরুষের তুলনায় নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। এখানে ঘরোয়া ও পারিবারিক আবহে গড়ে উঠেছে মাদকের নেটওয়ার্ক। একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও পুত্রবধূ মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। কলোনির মাদক সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় ডিলার হিসেবে পরিচিত নিলু ও সাইদুল দম্পতি। তারা মূলত গাঁজা ও ইয়াবার পাইকারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। কিছুদিন আগে এই নিলুর বাসা থেকেই ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছিল ডিবি পুলিশ। তবে সে সময় সুকৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই দম্পতির পরেই কলোনিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে পারুল, আছমা ও তার বোন নাজমা ওরফে চিয়া। এর মধ্যে পারুলের ছেলে রুবেল, মেয়ে নার্গিস, ঝুমু এবং মানিক কেডিসির দ্বিতীয় ধাপের ডিলার হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং কেউ বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে জখম বা ভয়ভীতি দেখাতে মানিক কলোনিতে দেশীয় অস্ত্রের বিশাল মজুত গড়ে তুলেছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বিঘেœ খুচরা ও পাইকারি দরে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা কলোনির ভেতরে একেকজন একেকটি স্পট ভাগ করে নিয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও ডিবির অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে তারা এখন কৌশল বদলেছে। নিজেদের ঘরে মাদক না রেখে আস্থার সুবাদে অন্যের ঘরে তা মজুত করা হচ্ছে।

যেমনÑনাজমা তার মাদকের চালান রাখছে খালা শিপুর বাসায়, আর আছমা তার নিজের বসতঘরের মেঝেতে সুড়ঙ্গ তৈরি করে অভিনব কায়দায় মাদক লুকিয়ে রাখছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেডিসির এই ডিলাররা প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ কেজি গাঁজা এবং ১ হাজার পিসেরও বেশি ইয়াবা খুচরা বিক্রি করে। ইয়াবা সহজে ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া গেলেও গাঁজা বিক্রির জন্য তৈরি করতে হয় বিশেষ ‘পোটলা’। এই পোটলা তৈরির কাজে কলোনিতে রয়েছে একদল দক্ষ শ্রমিক, যাদের মধ্যে লিটন, খাটো শিল্পী ও অ্যাপেল অন্যতম। তারা প্রতি কেজি গাঁজার পোটলা তৈরির বিনিময়ে ডিলারদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পেয়ে থাকে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাও কেডিসির মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা বা চাঁদা আদায় করে থাকে। এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই বহাল তবিয়তে চলছে এই সর্বনাশা ব্যবসা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেডিসি কলোনির প্রবেশমুখ এবং ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে

 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেডিসি কলোনির প্রবেশমুখ এবং ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েকটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে মাদক ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অনায়াসেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতো। বরিশাল নগরীকে মাদকমুক্ত করতে কেডিসির এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে দ্রুত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নগরবাসী।