ঢাকাThursday , 20 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্রে চলছে ‘সাউথ ইবনে সিনা’ ডায়াগনস্টিক, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগীরা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকা সত্ত্বেও ‘সাউথ ইবনে সিনা’ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম-নীতি উপেক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভুল বা বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের কারণে রোগীদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্রের বৈধতা না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিতে রোগীদের নিয়মিত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। এমনকি দক্ষ ও অনুমোদিত জনবল ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

বিষেশজ্ঞরা বলছেন, কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র বৈধ না থাকলে সেখানে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরীক্ষার ফলাফলে ভুল হলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ- কম খরচে পরীক্ষা করানোর কথা বলে তাদের ওই প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না। তাদের অভিযোগ, পরবর্তীতে একই পরীক্ষা অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করানো হলে দুই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের মধ্যে মিল পাওয়া যায় না। চিকিৎসকের কাছে রিপোর্ট দেখালে ওই রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “সাউথ ইবনে সিনার আমাদের দপ্তরের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।”

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করার কথাও জানান তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাগজপত্রের মেয়াদ নেই। আমি চালাই। আপনারা নিউজ করলে করবেন, তাতে কি হবে।”

তবে কিছুক্ষন পর ভোলপাল্টে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাওন।ব্রেকিং নিউজ সতর্কতা

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি- রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন, লাইসেন্স ও পরীক্ষার মানসহ সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জানা গেছে- ২০২১ সালের ১০ আগস্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার করায় সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক এক রোগীকে দেখে ১০ হাজার টাকায় ৯টি পরীক্ষা করাতে দিয়েছিলেন। তখন ২৫ মিনিটের মধ্যে ৯টি টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে সন্দেহ হয় সেই রোগীর। বিষয়টি তিনি তার এক আত্মীয়কে জানান। ওই আত্মীয় তাকে ঘটনাটি প্রতারণা করা হয়েছে বলে জানান। সেই ঘটনায় রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. শাওনকে আটক করেছিল পুলিশ। এছাড়াও চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র না থাকায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় পালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাওন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ভ্রাম্যমান আদালত।