
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বরিশালে বাস মেরামতের কারখানাগুলোতে চলছে তুমুল ব্যস্ততা। নগরীর রূপাতলী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্কশপে পুরোনো বাসগুলো নতুন সাজে সড়কে নামানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। কেউ বাসে রঙের কাজ করছেন, কেউ ব্যস্ত ইঞ্জিন, বডি কিংবা অন্যান্য যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে। দিন-রাত পরিশ্রম করেও যেন কাজ শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, রূপাতলী এলাকার একের পর এক গ্যারেজে সারি করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস। কোথাও বাসের পুরোনো রঙ ঘষে তুলে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে ওয়েল্ডিং, বডি মেরামত ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের কাজ। ঈদের আগে দ্রুত এসব বাস রাস্তায় নামাতে গ্যারেজগুলোর শ্রমিকদের যেন দম ফেলারও সময় নেই।
শ্রমিকরা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদকে কেন্দ্র করে এই সময়টাতে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক বাস দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করায় ছোটখাটো ত্রুটি দেখা দেয়। সেগুলো ঠিক করে আবার রাস্তায় নামানোর জন্যই এখন এত ব্যস্ততা।
রং মিস্ত্রি ইকবাল বলেন, ঈদের সময় বাস মালিকরা চান তাদের গাড়ি যেন নতুনের মতো দেখায়। তাই পুরোনো রঙ তুলে নতুন করে রঙ করতে হয়। এখন প্রায় সারাদিনই কাজ করতে হচ্ছে।
শ্রমিক ইমরান হোসেন জানান, অনেক বাসে বডি বা ইঞ্জিনের সমস্যা থাকে। আমরা সেগুলো মেরামত করছি। বাইরে থেকে দেখলে অনেক সময় পুরোনো মনে হতে পারে, কিন্তু মেরামতের পর এগুলো ঠিকভাবেই চলতে পারবে।
প্রথম দেখায় বাসগুলো অনেকের কাছে লক্কড়-ঝক্কড় মনে হলেও শ্রমিকরা সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, যেসব বাস মেরামত করা হচ্ছে সেগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে এগুলো নিরাপদভাবেই সড়কে চলাচল করতে পারবে এবং ঈদের অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সামাল দিতে সক্ষম হবে।
এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা ফিটনেসবিহীন কোনো বাস রাস্তায় নামানোর সুযোগ নেই। বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদের সময় যাত্রী চাপ বেড়ে যায়, তাই অনেক বাসকে আগে থেকেই প্রস্তুত করা হয়। তবে লক্কড়-ঝক্কড় বা ফিটনেসবিহীন বাস সড়কে নামানোর কোনো সুযোগ নেই। সব গাড়িই মেরামত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাস্তায় নামানো হবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকেও বাসগুলোর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী চলাচল অনেক বেড়ে যায়। তাই সড়কে চলাচলকারী বাসগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা বিশেষ নজরদারি করছি। ফিটনেসবিহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বাস চলতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি চালানো হবে।
জানা গেছে, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দেড় হাজার বাস যাত্রী পরিবহন করে। ঈদের সময় এই সংখ্যা ও যাত্রী চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে বাড়তি চাপ সামাল দিতে আগেভাগেই বাসগুলো প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বরিশাল অঞ্চলে যাতায়াত করবেন। তাই যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বাস মেরামত, রঙ করা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

