ঢাকারবিবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল নগরীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দীর্ঘ ১০ বছর পর সচল হচ্ছে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দীর্ঘ ১০ বছর পর সচল হচ্ছে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত ৪৩ কোটি টাকার এ প্রকল্প দুটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকলেও বর্তমানে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তা চালুর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রূপাতলী ও আমানগঞ্জ এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে প্লান্ট দুটি স্থাপন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। একই বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হয়। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ সমস্যা ও যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে প্লান্ট দুটি চালু না করে ফেলে রাখা হয়ছিল।

ফলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোতে মরিচা ধরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সম্প্রতি সরকার পুনরায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে সংস্কার কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে রূপাতলীর প্লান্টটি চলতি মাসেই চালু হতে যাচ্ছে। আর আমানগঞ্জেরটি মে মাসে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের দৈনিক পানির চাহিদা ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার। বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার। প্লান্ট দুটি পুরোপুরি সচল হলে প্রতিদিন বাড়তি ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এতে নগরীর বিশাল অংশের পানির ঘাটতি মিটবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নগরীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নামছে। ১০ বছর আগে যেখানে ২০ ফুটে পানি পাওয়া যেত, এখন তা ৪০-৫২ ফুটে নেমে গেছে। এতে শত শত টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা এখন সময়ের দাবি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, সরকারের বিশেষ বরাদ্দে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্লান্ট দুটি চালু হলে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং নগরবাসী নিরাপদ সুপেয় পানি পাবে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, তিনি সরজমিনে প্লান্ট দুটি পরিদর্শন করেছেন। রূপাতলীর কাজ শেষ, বেলতলার কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। এ দুটি প্রকল্প কার্যকর হলে নগরীর দীর্ঘদিনের পানি সমস্যার টেকসই সমাধান হবে।