বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে আছে এক গ্রাম আছে, যেখানে নেই কোন মানুষ

বাংলাদেশে আছে এক গ্রাম আছে, যেখানে নেই কোন মানুষ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় ‘মঙ্গলপুর’ নামে একটি গ্রাম আছে, অথচ সেই গ্রামে কোন মানুষ নেই। হঠাৎ কথাটি শুনে নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন। অবাক হওয়ার মতোই কথা।

তথ্য মতে, গ্রামটি উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, কোন জনবসতি নেই। গ্রামজুড়ে ধান, মুশুরি ইক্ষুসহ বিভিন্ন ফসলাদি আর ফলজ বাগান। রয়েছে বেশ কয়েকটি বসত ভিটার ধ্বংসাবশেষ, রয়েছে পুকুর। যে কারণে বোঝা যায় এক সময় এ গ্রামে মানুষের বসবাস ছিল, এখন নেই।

এ বিষয়ে পাশের বলাবাড়িয়া গ্রামের ৯৫ বছর বয়সী খালেক খানের জানান, আমি জানি না, তবে বাপ দাদাদের কাছে শুনেছি এক সময় ওই গ্রামে মানুষ ছিল। তাদের অনেকের গোলা ভরা ধান ছিল, গোয়ালে ভরা গরু ছিলো।

প্রায় ১৫০ বছর আগে গ্রামটি সর্বশেষ হাজরা ঠাকুর, নিপিন ঠাকুর এরা ৪/৫ ছিল। তারাও প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ বছর আগে তারাও ঘরবাড়ী ভেঙ্গে চলে যায় বলে জানান খালেক।

অন্যদিকে বলাবাড়িয়া গ্রামের মুক্তার আলি বলেন, শুনেছি মঙ্গলপুর গ্রামের মঙ্গল পাঠান নামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন তার নামেই গ্রামটির নাম মঙ্গলপুর। তার ৩ একর জমির ওপরে ছিল বিশাল বাড়ি। বাড়ির চারপাশে উচুঁ করে ৩০ থেকে ৪০ ইঞ্চি চওড়া মাটির প্রাচীর (গড়) ছিল। পাশের পুকুরের উচু পাড়ে দাঁড়িয়ে নাকি বাড়ির ভেতরের কাউকে দেখা যেত না। ওই পরিবার ছিল ভীষণ ভাবে পর্দাশীল। বউ-মেয়েরা কখনও বাইরের পুরুষের সাথে দেখা দিত না। ওই মঙ্গল পাঠান এখানেই মারা যান। তার কবরও রয়েছে এখানে।

তিনি আরও বলেন, শুনেছি ১২ জাতির বাস ছিল এ গ্রামটিতে। অত্যাচারিত হয়ে ওই গ্রামের মানুষ গ্রাম ছেড়েছে এমন কথাও কখনোই শুনিনি। তবে সঠিক কি কারণে ধীরে ধীরে মানুষ গ্রাম ছেড়েছে তা আমার বাবাও বেঁচে থাকা অবস্থায় বলতে পরেননি। তবে এ এলাকায় চাউর আছে, এক সময় কলেয়া গুটি বসন্ত ওই গ্রামটিতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মানুষ ওই কলেয়া গুটি বসন্তে মারা যায়। মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ছিল বেশি। অনেকে চেষ্টা করেও গ্রামে কলেয়া গুটি বসন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

এই ভয়ে তখন মানুষ ওই গ্রাম ছাড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে মানুষজন ঘর বাড়ি ভেঙ্গে যে যার মত ভারতসহ দেশের সুবিধামত জায়গায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। সেই থেকে ওই গ্রাম মানুষ শুন্য হয়ে যায়।

ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর খান বলেন, এলাকাতে তেমন বয়স্ক মানুষ বেঁচে না থাকায় মঙ্গলপুর গ্রামের প্রকৃত ইতিহাস এখন আর কেউ বলতে পারবে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby