শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বাংলার নবজাগরণ’র অন্যতম সারথি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, পন্ডিত রামতনু লাহিড়ী ও বরিশাল জিলা স্কুল

বাংলার নবজাগরণ’র অন্যতম সারথি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, পন্ডিত রামতনু লাহিড়ী ও বরিশাল জিলা স্কুল

 

প্রফেসর ইনামুল হাকিম ( প্রাক্তন অধ্যক্ষ), বিএম কলেজ, বরিশাল।

 

ইতি হা স’র পা তা থেকে।
বাংলার নবজাগরণ’র অন্যতম সারথি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, পন্ডিত রামতনু লাহিড়ী ও বরিশাল জিলা স্কুল

বাংলার নবজাগরণ’র অন্যতম সারথি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, পন্ডিত রামতনু লাহিড়ী সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বদলী ভিত্তিক চাকরি। একসময় বরিশাল’এ তাঁর আগমন ঘটে। জিলা স্কুল’র প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১৮৬০ সালে যোগদান করেন। সেই সুবাদে উনিশ শতকের এই উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক’র সাথে বরিশাল’র এক অপূর্ব স্মৃতিময় সম্মন্ধ তৈরি হয়। যদিও বরিশাল’এ তাঁর অবস্থান বেশিদিন স্হায়ী হয়নি। কিন্তু বিদ্যার্থীদের মনোজগতে সেই অল্প সময়ে তিনি প্রভূত প্রভাব ফেলতে সক্ষম হন। তাঁর শিষ্য ছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী। ‘রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ’ নামে তাঁর একটি বই আছে। তিনি বলছেন ‘এ’সময়ে যাহারা তাহার নিকট পাঠ করিয়াছিলেন, তাহাদের মধ্যে অনেকেই এখন প্রাচীন। তাহাদের মুখে শুনিতে পাই যে, মধুবিন্দুর চারিদিকে যেমন পিপীলিকা -শ্রেণী জোটে, তেমনি সন্ধ্যার সময় বালকগণ লাহিড়ী মহাশয়ের চারিদিকে জুটিত। তিনি স্কুল গৃহের নিকটস্থ পুস্করিণীর বাধাঘাটে তাহাদের মধ্যে সমাসীন হইয়া বিবিধ বিষয়ে প্রসঙ্গ উত্থাপন করিতেন এবং কথোপকথনচ্ছলে নানা তত্ত্ব তাহাদের গোচর করিতেন। ইহার আকর্ষণ এমনি ছিলো যে, বালকগণ গুরুজনের নিকট তিরস্কার সহ্য করিয়াও আসিতে ছাড়িতে না। কোনও কোনও বালক সেই হইতে চিরজীবনের মতো সাধুতার দিকে গতি পাইয়াছে। তাহারা এক-একজন এখন কর্মক্ষেত্রে দন্ডায়মান। সকলেই লাহিড়ী মহাশয়কে চিরদিন গুরুর ন্যায় ভক্তিশ্রদ্ধা করিয়া আসিয়াছেন এবং এখনও তাহার স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করিতেছেন’।

 

 

রামতনু লাহিড়ী গত হয়েছেন ১২২ বছর হলো। গত ১৮ আগস্ট ছিলো তাঁর মৃত্যুদিন। কিন্তু আজও তাঁর শিক্ষা, চিন্তা, দর্শন, সমাজ ভাবনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হচ্ছে। জন্মেছেন কৃষ্ণনগরে। লেখাপড়ার শুরুটা গ্রামের পাঠশালায়। বাবা রামকৃষ্ণ লাহিড়ী ছিলেন নদীয়ার রাজপরিবারের দেওয়ান। পরে অগ্রজ কেশবচন্দ্র লাহিড়ী’র হাত ধরে চলে যান কোলকাতায়। এখানে পেলেন ডেভিড হেয়ারের পৃষ্ঠপোষকতা। বিনা বেতনে হেয়ার স্কুলে পড়ার সুযোগ । বৃত্তি নিয়ে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন ১৮২৮ সালে। সংস্পর্শে এলেন বাংলার নবজাগরণ’র পুরোধা পুরুষ হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর। তিনি তখন হিন্দু কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই কলেজে তাঁর সময়টা ছিলো ১৮২৬ থেকে ১৮৩১ পর্যন্ত। ডিরোজিও তখন সামাজিক অন্যায়, অবিচার, সকল প্রকার কুসংস্কার, কূপমন্ডুকতা আর ধর্মান্ধতা’র বিরুদ্ধে যুক্তিনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তার ছাত্রদের চিন্তার জগতে ঝর তুলছিলেন। এক্ষেত্রে তাঁর দৃষ্টান্ত ছিলো ইতিহাস ও দর্শন। নানাদিক থেকে উনিশ শতক ছিলো বিভিন্ন সংস্কার আন্দোলন ও নবজাগরণ’র যুগ। কেউ কেউ এসময়কে স্কুল শিক্ষকদের যুগ বলেও চিহ্নিত করেন। ডিরোজিও থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, প্যারীচরণ সরকার, পন্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী, ডেভিড হেয়ার বিখ্যাত স্কুল শিক্ষকগণ তখন বাংলায় এক নব আদর্শের উন্মেষ ঘটান।

 

 

 

রামতনু হিন্দু কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৮৩৩ সালে। সরকারি কৃষ্ণনগর কলেজে যোগ দেন ১৮৪৬ সালে। বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক’র দায়িত্ব নিয়ে যোগদান ছিলো চাকরি জীবনের ধারাবাহিকতার শেষ পর্যায়ে। শিক্ষক হিসেবে রামতনু ছিলেন সে যুগের একজন আদর্শ প্রতিনিধি।
রামমোহনের প্রভাবে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। ফলে তিনি যেখানেই গেছেন সেখানেই তিনি গোঁড়া হিন্দু পণ্ডিতদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু শিক্ষিত ব্যক্তিরা তাঁকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে এবং তাঁর অনুপম চরিত্রের জন্য গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন।

 

 

 

ব্রাহ্মধর্ম প্রচারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের হিতোপদেশ অপেক্ষা বুদ্ধি ও নীতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত করেন। সরকারি চাকরির সুবাদে তিনি বাংলার বিভিন্ন স্কুলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। সর্বত্রই তিনি তাঁর ছাত্র ও সহকর্মীদের দ্বারা একজন আদর্শ শিক্ষক, জ্ঞান ও চিন্তার নতুন উৎস এবং একজন অসাধারণ সংগঠক হিসেবে অভিনন্দিত হয়েছেন। তিনি তাঁর শিক্ষা, একাগ্রতা, পুনর্জাগরণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দিক নির্দেশনার দ্বারা ছাত্রদের একটি প্রজন্ম তৈরি করেন, যাঁরা পরবর্তীকালে শিক্ষা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা এবং অন্যান্য পেশায় সৃজনশীল অবদান রাখেন।

 

 

সূত্র : উইকিপিডিয়া, বরিশাল জিলা স্কুল’র ১৭৫ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত ‘শব্দ ফুল নীলিমা’র ডিসেম্বর ২০০৫’র সংখ্যা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




আমাদের ভিজিটর

  • 206,685 জন ভিজিট করেছেন
© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby