ঢাকাশুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃষ্টিতে ধসে পুকুরে মীরগঞ্জ-মুলাদী সড়ক, বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কায় ৪ উপজেলা

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১০, ২০২৬ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৩

বৃষ্টিতে ধসে পুকুরে মীরগঞ্জ-মুলাদী সড়ক, বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কায় ৪ উপজেলা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা তিন দিনের অবিরাম ও প্রবল বর্ষণের তোড়ে ধসে পড়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জের রহমতপুর–মীরগঞ্জ–মুলাদী আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি বড় অংশ। সড়কের কার্পেটিংসহ মাটির বিশাল একটি অংশ পাশের গভীর পুকুরে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট ফেরিঘাটমুখী এই ব্যস্ততম রুটে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে সড়কটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার পাঁচ রাস্তা স্টেশন সংলগ্ন খান বাড়ির সামনে সড়কটির উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে গেছে। পিচঢালা পথ ভেঙে মরণফাঁদে পরিণত হলেও তার ওপর দিয়েই অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলছে দূরপাল্লার বাস ও ভারী ট্রাক।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত তিন দিন ধরে চলা মুষলধারে বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমন্ত, তখন হঠাৎ করেই বিকট শব্দে সড়কের অংশবিশেষ পাশের পুকুরে ধসে পড়ে।

ধসের তীব্রতা দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম খান বলেন, টানা বৃষ্টিতে সড়কটি ধসে পুকুরে চলে গেছে। এখনই যদি গাইড ওয়াল বা জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পুরো রাস্তাটাই ধসে পড়বে। এতে ৪টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

রহমতপুর–মীরগঞ্জ–মুলাদী সড়কটি কেবল একটি সাধারণ রাস্তা নয়, এটি বরিশাল জেলা সদরের সঙ্গে মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ এবং কাজিরহাট ফেরিঘাট এলাকার যোগাযোগের একমাত্র ‘লাইফলাইন’। আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেরি পারাপারের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের অসংখ্য যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে।

গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের এমন বিপর্যয় শুধু স্থানীয় যোগাযোগকেই স্থবির করেনি, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক অর্থনীতি ও পণ্য পরিবহনেও বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি একপাশে ধসে মারাত্মক সংকুচিত হয়ে পড়লেও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়নি। এর ফলে ধসে যাওয়া অংশে প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ছে এবং ফাটল আরও বড় হচ্ছে। বর্ষা চলমান থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

যোগাযোগ করা হলে বরিশাল সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রবল বর্ষণের কারণেই সড়কের এই ক্ষতি হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই ঠিকাদার নিয়োজিত করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা হবে।