বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:২৮ অপরাহ্ন

মধ্যরাতে গুজবে উত্তাল বরিশাল, দিগবেদিক সাধারন মানুষ

মধ্যরাতে গুজবে উত্তাল বরিশাল, দিগবেদিক সাধারন মানুষ

সারাদেশের মতো পটুয়াখালীতেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে রয়েছে মানুষ। বাংলাদেশে ১০ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে এমন খবরে ঘুম হারাম হয়েছে পটুয়াখালীবাসীর। পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ভাইরাস ঠেকাতে হলে ‘ফজরের নামাজের আগে তিনটা থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলে মুক্তি মিলবে’ এমন গুজবে মঙ্গলবার রাতে সড়কে নেমেছেন পটুয়াখালীর সহজ সরল মানুষ। গভীর রাতে পটুয়াখালী জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

একজন প্রসিদ্ধ পীর স্বপ্ন দেখেছেন এমন গুজবের ওপর ভিত্তি করে তথ্য রটে, থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাস আর সংক্রমিত হবে না। মিলবে মুক্তি। সেই গুজবে সাড়া দিয়ে পটুয়াখালী সহ আশপাশের অঞ্চলের বাসীন্দারা রাতের আঁধারে থানকুনি পাতা সংগ্রহে নামে। অনেকে ইতিমধ্যে চিবিয়ে খেয়েছেন সে পাতা। তারা বলছেন, এই থানকুনি পাতাই করোন াভাইরাসের উত্তম প্রতিষেধক।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা থেকে শুরু হয়েছে এ গুজব। পটুয়াখালীতে অনেকে ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ কেউ থানকুনি পাতা সংগ্রহ করতে পেরেছেন জানিয়ে ছবিও পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ স্বজন, বন্ধুদের ফোন করে ঘুম ভাঙাচ্ছেন এবং জরুরী ভিত্তিতে থানকুনি পাতা সংগ্রহের তাগিদ দিয়েছেন।

পটুয়াখালী সবুজবাগ বাসিন্দা এবং গ্রামীন ব্যাংক এর কর্মচারি রুবিনা খাতুন বিডি ক্রাইম ২৪ডটকমকে বলেন, “রাতে আমার শাশুরী ফোন দিয়ে ৩ টি থানকুনি পাতা পানিতে ভিজিয়ে রেখে কিছুক্ষন পর খেতে বলেছেন। আজকে রাতের মধ্যে না খেলে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না”

পটুয়াখালী সবুজবাগের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, রাত ৩ টায় তার আত্নীয় ফোন করে থানকুনি পাতা খেতে বলেন। তার আত্নীয় বাড়ীর মসজিদে নাকি ইতিমধ্যে মাইকিং করেও জানানো হয়েছে থানকুনি পাতায় করোনা মুক্তির কথা।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সিটিজেন হেলথ কমপ্লেক্স এর চিকিৎসক ডাঃ মিঠুন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, থানকুনি পাতায় উপকারিতা রয়েছে। তবে করোনা প্রতিষেধক হিসেবে থানকুনি পাতা খেলে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এটি সম্পুর্ন গুজব।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আরও দু’জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, বাকি ৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby