ঢাকাWednesday , 21 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা মনিরুজ্জামান খান ফারুকের, আমানতগঞ্জে অভিযান

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড মাদকমুক্ত করতে ধারাবাহিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার, পরিবারকে সন্তানদের প্রতি নজর রাখার আহ্বান

নগরীকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার রোধে ধারাবাহিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নগরীর আমানতগঞ্জ টিভি মাঠ এলাকায় এ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ খান তুষারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। তাঁর মতে, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা কোনো একক সংগঠনের পক্ষে সম্ভব নয়; এ জন্য পরিবার, সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের পরিবেশে সময় কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর রাখতে হবে। সন্তানদের প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে মাদকের ঝুঁকি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা অনেক সহজ হবে।

মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, “মাদক নির্মূলে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এ দেশের মানুষকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়েই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক অগ্রগতি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতেও লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

মাদকের বিস্তারকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি সমাজের স্বাভাবিক কাঠামো ও দেশের ভবিষ্যৎকেও বিপর্যস্ত করতে পারে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে না পারলে এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর পড়বে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জসহ প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে এ লড়াই অব্যাহত রাখতে চান তিনি। কোনো পরিবার যেন মাদকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো তরুণ যেন মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, সে জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী উদ্যোগ সফল করতে অভিভাবক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া তরুণদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সচেতনতা, পারিবারিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বরিশাল নগরীকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মনিরুজ্জামান খান ফারুক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চান তিনি। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধারাবাহিক কার্যক্রম, জনসম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মাদকমুক্ত বরিশাল গড়ার প্রত্যাশা

মাদকের বিস্তার রোধে কেবল অভিযান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, জনসচেতনতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ। আমানতগঞ্জ থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত হলে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।