শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০৭ অপরাহ্ন

মারজুক রাসেলকে ‘তাচ্ছিল্য’ করা সহ্য করলেন না ফারুকী

মারজুক রাসেলকে ‘তাচ্ছিল্য’ করা সহ্য করলেন না ফারুকী

অমর একুশে বইমেলায় অভিনেতা ও গীতিকার মারজুক রাসেল প্রকাশ করেছেন তাঁর কবিতার সংকলন ‘দেহবন্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’। এবারের মেলায় সর্বোচ্চ বিক্রির তালিকায় রয়েছে এই বইটি। ইতিমধ্যেই ১০ হাজারের বেশি বই বিক্রি হয়েছে বলে এর প্রকাশনা সংস্থা- বায়ান্ন’ ৫২’র পক্ষ থেকে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, এই বইটিকে ঘিরে মারজুকের ভক্তদের হুড়োহুড়ি বেশ আলোচনাও তৈরি করেছে।

এরই মধ্যে ‘মারজুক রাসেল কেডায় আসলে?’ লিখে মারজুককে তাচ্ছিল্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক ও শিক্ষক আজফার হোসেন। তার এ মন্তব্য ভালোভাবে নেননি গুণী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও মারজুকের ভক্তরা। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে কড়া সমালোচনা।

এই প্রসঙ্গে গতকাল রোববার ফারুকী তার ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দেন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

‘ফেসবুকে মতামত দেওয়া থেকে বিরত আছি বহুকাল। কিন্তু একটা বিষয়ে হইচই দেখে কথা না বলে পারলাম না। মারজুক রাসেলের কবিতার বই বিক্রি হচ্ছে। এটি নিয়ে অনেকেই তাদের বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

মারজুক আমার গভীর গোপনতম ভাইব্রাদার। শুরুর দিকে ও যখন আমার সঙ্গে থাকতে শুরু করে, তখন থেকেই ওর ওপর এলিটিস্ট অবজ্ঞা দেখে আসছি। প্রথম থেকেই এই অবজ্ঞারে ঝাঁটা মারা আমার পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমি তুলে নিছিলাম। সেটি করছি কোনো কথা না বলে! একসঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে।

এই অবজ্ঞার আরেকটি নমুনা দেখলাম আজফার হোসেনের পোস্টে। সেখানে উনি মারজুক রাসেল কে? এটি জানতে চাইছেন। তা জানতে চাইতেই পারেন। না জানলে জানতে চাওয়াটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু এই ধরনের পোস্টের উদ্দেশ্য যে “জানতে চাওয়া” না হইয়া “তুচ্ছ করতে চাওয়াও” হতে পারে, এটি আজকের শিশুরাও বোঝে। আজফার ভাইয়ের কাজকর্মের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। সত্যিই যদি উনি জানতে চাইতেন, তা হলে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই পারতেন। বা ওর দুয়েকটা কবিতা ঘেঁটে পড়লেও পারতেন। পড়ার পর উনার ভালো লাগতে পারত, খারাপও লাগতে পারত। উনি ভাবতেই পারতেন এই কবিতার বই কেনার কী আছে। মানুষের হরেক রুচি। কারও এটি ভালো লাগে, তো আরেকজনের অন্যটা ভালো লাগে।’

ফারুকী আরও লিখেন, ‘কিন্তু এইটুকু পরিশ্রম না করে “জানতে চাওয়া” বিষয়ক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আমার মনে হয় উনি কাউকে বাতিল করার এলিটিস্ট তরিকাটি অ্যাপ্লাই করলেন।’

সবশেষে ফারুকী লিখেছেন- ‘উনার (এবং উনার মতো আরও অনুসন্ধিৎসুদের) সুবিধার্থে মারজুকের পরিচয় নিচে সংযুক্ত করা হইল :

নাম : মারজুক রাসেল

মাতা : হোসনে আরা

পিতা : শেখ সিকান্দার

সাং : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

জন্ম সময় : ১৫ আগস্ট, কোনো এক সময়।’

শুধু ফারুকীই নয় আজফার হোসেনের এমন মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন অনেকেই। বেশ কয়েকজনকেই দেখা গেছে এর প্রতিবাদ করে স্ট্যাটাস দিতে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby