ঢাকাবুধবার , ১ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলপথে যাওয়া যাবে কুয়াকাটায়, দেশজুড়ে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ,

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১, ২০২৬ ৩:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৪

নিউজ ডেস্ক :: রেলপথে যাওয়া যাবে কুয়াকাটায়, দেশজুড়ে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ

দেশের প্রতিটি জেলাকে রেল সংযোগের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। এরই মধ্যে ভাঙ্গা থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়নের উৎস খুঁজছে সরকার। পাশাপাশি যেসব জেলা এখনও রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে, সেসব এলাকায়ও পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রেলপথের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই বিশাল বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

বাস্তবায়িত হলে রেলপথে সরাসরি যাওয়া যাবে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায়। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের পর সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই বাস্তবের কাছাকাছি। ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালী পর্যন্ত ২৪৪ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পায়রা বন্দরে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, বরিশালে একটি মাল্টিমোডাল হাব এবং পুরো রুটজুড়ে ১৯টি বড় স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১৭ কিলোমিটার নিচু ভূমিতে উড়াল রেলপথ, কীর্তনখোলা ও পায়রাসহ বিভিন্ন নদীর ওপর ৪৬টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রেলপথে কোনো লেভেল ক্রসিং রাখা হবে না; পরিবর্তে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের জন্য অর্থায়নের উৎস খুঁজছে সরকার।

তিনি বলেন, “আমাদের চিন্তা-ভাবনার মধ্যে রয়েছে, যেহেতু সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে, সেহেতু এখন অর্থ সংস্থানের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামানের মতে, রেললাইন সম্প্রসারণের পাশাপাশি পায়রা বন্দরভিত্তিক পণ্য পরিবহনের অবকাঠামোও একই সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, “পায়রা বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর আমদানি-রপ্তানি করিডোর তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী পরিবহনের জন্য রেললাইন থাকবে। ফরওয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংক তৈরি না হলে শুধু যাত্রী পরিবহনের ওপর নির্ভর করে এত বড় বিনিয়োগের যথাযথ সুফল মিলবে না। বরং এটি সরকারের জন্য বড় ধরনের ঋণের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

এদিকে, যেসব জেলা এখনও রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে, সেগুলোকে সংযুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। অল্প সময়ের মধ্যেই এসব অঞ্চলের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান রেলপথ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ঢাকার আশপাশে রেলপথ আরও সম্প্রসারণ করা। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা এবং দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে এখনও রেল সংযোগ নেই। এগুলোসহ দেশের বাকি জেলাগুলোকে পর্যায়ক্রমে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্য সরকার কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারেও দেশের সব জেলাকে ধীরে ধীরে রেল সংযোগের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রেললাইন নির্মাণ করলেই হবে না; প্রতিটি জেলার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার সঙ্গে সমন্বয় করে অবকাঠামো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ড. হাদিউজ্জামান বলেন, “প্রত্যেক জেলার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে রেলপথ তৈরি হলেও এর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উপযোগিতা পুরোপুরি অর্জিত হবে না।”

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে, যার মাধ্যমে ৪৮টি জেলা রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে