বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১১ অপরাহ্ন

শিক্ষা ক্যাম্পাসে যৌন-নির্যাতন চলছেই, নেয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা

শিক্ষা ক্যাম্পাসে যৌন-নির্যাতন চলছেই, নেয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা

একের পর এক যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এসব ঘটনায় তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও হচ্ছে না। সম্প্রতি বরিশাল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বরিশালঃ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে প্রকাশ্যে এক ছাত্রীকে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন ঘটনার ৫ দিন পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীকে দেখতে পর্যন্ত যাননি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। যদিও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছে। সবকিছু ছাপিয়ে ওই ছাত্রী ক্লাসে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

তিনি তার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রলীগ নাম ধারীদের সঙ্গে গণিত বিভাগের দুজন শিক্ষকের জড়িত থাকার সন্দেহ করছেন। এদিকে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। এর আগে একবার নির্যাতনের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেও কোনো বিচার পায়নি তারা। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, গত ১ মার্চ একাডেমিক ভবনের সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় অন্তত ১৫ জন মুখোশধারী তার পথরোধ করে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। পরে তাকে পঞ্চম তলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে লাঠিসোঁটাও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে বেদম মারধর করে। তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তারা তার দেহ পদদলিত করে। একপর্যায়ে তার হাতে থাকা জ্যামিতি বক্সের সুচালো কাঁটা দিয়ে তার স্পর্শকাতর অঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত করে। এ ঘটনার পর চার দিন গোপনে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও ইনফেকশনের আশঙ্কায় গত বুধবার বিকালে তাকে শেরেবাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন স্বজনরা। শেরেবাংলার মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহবুব আলম জানান, ওই ছাত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবেও বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছেন

অন্যদিকে ওই ছাত্রীকে কেন ৪ দিন পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলো- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তার পরও গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তের প্রয়োজন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছি।

 

রাজশাহী ঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চারুকলা অনুষদের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় নিশ্চুপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলা বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীরর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের এক সপ্তাহের বেশি অতিবাহিত হলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগকারী এক ছাত্রী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে হতাশ। এত দিন হলো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, এখন পর্যন্ত আমাদের কাউকে কোনো বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। অবশ্য আমরা একবার নিজেরা যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায় সেলের সভাপতি নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। ’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা ও যৌন হয়রানি নিরোধ সেলের সদস্যসচিব লায়লা আরজুমান বানু জানান, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটি না চাইলে তদন্ত কমিটি দেওয়া হয় না। ’

সূত্রে জানা যায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলে চারুকলা অনুষদের তিনটি বিভাগের ১৩ জন শিক্ষার্থী এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ এনে একটি মামলা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার।

এদিকে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্কুল শিক্ষক বরখাস্ত :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টার মেয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল শিক্ষক দুরুল হুদাকে বরখাস্ত করেছে স্কুল পরিচালনা পরিষদ। ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় চাকরি থেকে তাকে গত বছরের ২০ অক্টোবর থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত কাল (বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক মো. দুরুল হুদা ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় তাকে ২০.১০.২০১৯ তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তিনি সময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক জীবিকা নির্বাহ ভাতা পাবেন।

এর আগে, গত বছরের ২০ অক্টোবর মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক দুরুল হুদার বিরুদ্ধে রাজশাহীর মতিহার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে ভুক্ত ভোগীর মা। মামলায় পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করেন। প্রায় ২ মাস কারাগারে থাকার পর গত বছর ১২ ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি। জামিনে বের হওয়ার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন ওই শিক্ষক। তিনি বলেন, মেয়েটিকে বিয়ে না করায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby