ঢাকাMonday , 10 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সওজে বদলি বাণিজ্য ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, আলোচনায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদ রহমান

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এ প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও দপ্তরের অভ্যন্তরে প্রভাববলয় ও কথিত সিন্ডিকেট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমানকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বদলি, প্রকল্প অনুমোদন ও বিদেশ সফর ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে।
দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রভাববলয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গঠিত -এর মুখোমুখি হয়েছিলেন এ.কে.এম আজাদ রহমান। যদিও পরবর্তীতে তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগের কারণে আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে অধিষ্ঠিত হন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।তবে এ বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের দাবি, সওজে কথিত সিন্ডিকেট কাঠামো তিনটি স্তরে সক্রিয়—১. বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট—গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।২. প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেট—টেন্ডার ও প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার।৩. অর্থ সংশ্লিষ্ট অনিয়ম—বিদেশ সফর ও প্রকল্প ব্যয়ের মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই কাঠামোর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন এ.কে.এম আজাদ রহমান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রকৌশলী নুরু ইসলাম প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের কেউই এ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি।
গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন কর্মকর্তার মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে সফর অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এসব সফরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী -এর নেতৃত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া চললেও সাম্প্রতিক কয়েকটি বদলি প্রজ্ঞাপন ঘিরে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা জোনে পদায়ন নিয়ে দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কারের সময় যদি বিতর্কিত বা আলোচিত কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তবে কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সওজের অধীন সড়কগুলোর মান, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা জোরদার না হলে অবকাঠামো উন্নয়ন টেকসই হবে না।

সরকারি সূত্র জানায়, প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ প্রভাববলয় ভেঙে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সাবেক এক সচিবের ভাষায়, “প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকলে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।”
সব মিলিয়ে, সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন প্রশাসনিক সংস্কার আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।