বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৩ অপরাহ্ন

৩ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে করোনাভাইরাস

৩ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে করোনাভাইরাস

বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনও ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে এটি নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি এক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসে কয়েক ঘণ্টা এবং কিছু বস্তুতে দু থেকে তিন দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এই ভাইরাসটি।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সম্মিলিত ওই গবেষণাপত্রটি বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। এ থেকে জানা যায়, এটি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া বাতাস এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা বিভিন্ন জড় পদার্থ থেকেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস।

বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া এই নতুন ভাইরাসে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া এতে মারা গেছে আরও ৫ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসকে ২০০৩ সালে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া সার্স (সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ হিসাবে উল্লেখ করছেন বিজ্ঞানীরা।

মার্কিন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলছেন, এ ভাইরাসের কণাগুলি বাতাসে তিন ঘন্টা পর্যন্ত এবং তামা ধাতুতে চার ঘন্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এছাড়া ২৪ ঘন্টা পরে কার্ডবোর্ডের টুকরোতে এবং দুটি থেকে তিন দিন পর প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিলের মধ্যে করোনাভাইরাসের জীবাণু খুঁজে পেয়েছিলেন গবেষকরা।

২০০৩ সালে ছড়িয়ে পড়া সার্স ভাইরাসটি পরীক্ষা করার সময়ও বিজ্ঞানীরা একই ফলাফল পেয়েছিলেন। তবে নতুন করোনভাইরাসটি কেন এত দ্রুত ও সহজে ছড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ওই গবেষণা।

মার্কিন সরকার এবং জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটস, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই গবেষণা চালিয়েছে।

পরে তাদের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইটে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে যাতে করে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশের আগেই গবেষকরা দ্রুত তাদের কাজগুলি ভাগ করে নিতে পারেন। তবে তাদের এই গবেষণাকর্মটি এখনও অন্য বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরীক্ষা করে দেখা করা হয়নি।

এই গবেষণাকে ‘এ সলিড পিস অব ওয়ার্ক দ্যাট অ্যানসার কোস্চেনস পিপল হ্যাভ বিন আসকড’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালযয়ের মাইক্রোবায়োলজির প্রফেসর জুলি ফিশার। তিনি মনে করেন এই গবেষণাটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সুপরামর্শে পরবর্তীতে আরও সমৃদ্ধ হবে।

করোনাভাইরসের বিস্তার ঠেকাতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন প্রফেসর জুলি ফিশার। তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রামিত লোকজনের সংস্পর্শ এড়াতে আমাদের বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।’ একই সঙ্গে মুখে হাত দেয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 ajkercrimetimes.com

Design and Developed By Sarjan Faraby