প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:২১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:০৬ পি.এম

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনাকে উদ্দেশ করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম ফকিরের দেওয়া বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘অনেক নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকায় থাকতে পারেননি।’ তাঁর এমন বক্তব্যকে প্রশাসনকে কটাক্ষ ও হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অনেকে।
৮ নভেম্বর রোববার বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম ফকির এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ইউএনওকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা চাকরি করতে এসেছেন। দলের ভেতরে গ্রুপিং করতে চান, ফায়দা লুটতে চান, সেটা বাবুগঞ্জের মাটিতে হবে না।’
এর আগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে একই দলের দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শামসুল আলম ফকিরের দাবি, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি না থাকলেও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে তাঁদের অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেন। একই দিন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকেও একই স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে শামসুল আলম ফকির বলেন, জুলুম-অত্যাচার সহ্য করে তাঁরা রাজনীতি করেছেন, বন-জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন। তাঁরা কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে চান। এ সময় প্রতিপক্ষদের রাজপথে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে রাজনৈতিক নেতার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে জড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। প্রশাসন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠান। তাঁদের কটাক্ষ করা কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি শামসুল আলম ফকিরের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনকে কেন্দ্র করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনও নতুন করে সামনে এসেছে। একই দিন ও একই সময়ে আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এবং সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন।
পরে আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন পক্ষ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পায়। এবং সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স পরবর্তীতে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেন।
রোববারের আলোচনা সভায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান। তবে এতে উপস্থিত ছিলেন না সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
এর আগেও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বরিশাল জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে পৃথক মিছিল ও শোভাযাত্রা নিয়ে অংশ নিতে দেখা যায়। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে দুই নেতার পৃথক সাংগঠনিক বলয় নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তবে দলের ভেতরে সুযোগসন্ধানী কিছু নেতা বিভাজন সৃষ্টি করতে চান। এ বিষয়ে আমরা নতুন কিছু দেখছি না।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, তিনি একই সময় দুজনকে অনুমতি দিয়ে বিএনপির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই। তিনি বাবুগঞ্জে আসার পর থেকেই বিএনপির মধ্যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। তিনি বিশেষ কিছু ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক রেখে তাদেরকে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে আমাকে এখানে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দায়িত্ব শেষ হলে অন্য কোথাও চলে যাব।
এ বিষয়ে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অচিরেই বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির মধ্যে কোনো সংকট কিংবা দলের মধ্যে বিভাজন থাকলে আমি দুই পক্ষকে ডেকে সমাধান করে দেব।
ইউএনও প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, তিনি এখানে কাজ করতে এসেছেন। তাঁকে সবার সহযোগিতা করা উচিত। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ। যারা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কথা বলেন, সেটি ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন, একই স্থানে পৃথক কর্মসূচির অনুমতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বিএনপি নেতার বক্তব্যকে ঘিরে বাবুগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।