আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) আরবি ভাষাভাষী মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এল্লা ওয়াউইয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘ক্যাপ্টেন এল্লা’ নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ দুই দশক এই দায়িত্বে থাকা কর্নেল আভিচাই আদ্রায়ি অবসরে যাওয়ার পর ৩৬ বছর বয়সী এল্লাকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ পদধারী মুসলিম নারী কর্মকর্তা হয়েছেন।
এল্লা কেবল দাপ্তরিক বিবৃতি পাঠেই সীমাবদ্ধ নন। আদ্রায়ির মতো তিনিও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভিডিওর মাধ্যমে আরব বিশ্বের মানুষের কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। সম্প্রতি পশ্চিম তীরের তুলকারম ও জেনিন সফরের সময় তিনি ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
ইসরায়েলের কালানসওয়া শহরের এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে এল্লার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। যে পরিবেশে তার জন্ম, সেখান থেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। ১৩ বছর আগে ২৪ বছর বয়সে তিনি যখন আইডিএফে যোগ দেন, তখন সেটি ছিল তার সম্প্রদায়ের জন্য বিস্ময়কর একটি ব্যাপার। ২০২১ সালে তিনি প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ‘মেজর’ পদে উন্নীত হন এবং আদ্রায়ির ডেপুটি হিসেবে কাজ শুরু করেন।
এল্লা নিজেকে একজন ‘গর্বিত ইসরায়েলি’ হিসেবে পরিচয় দেন। একটি ভিডিওতে নিজের উর্দিতে থাকা ইসরায়েলি পতাকার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমি অন্তরে একজন ইসরায়েলি এবং এই সেনাবাহিনীই আমার সাফল্যের পথ।”
তবে তার এই অবস্থান আরব ও মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে সমালোচলার পাশাপাশি প্রশংসাও পেয়েছেন তিনি। মরক্কোর সাফা শামা নামের এক নারী মন্তব্য করেছেন, “একজন সাহসী আরব নারীর সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা।”
ইসরায়েলের নাগরিকদের জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও সেখানে বসবাসরত আরব মুসলিমদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অধিকাংশ আরব মুসলিম নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন এবং পশ্চিম তীর ও গাজায় তাদের আত্মীয়স্বজন রয়েছে। জেরুজালেম রিপোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনৈক ব্যক্তি বলেন, “যতক্ষণ ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধান না হচ্ছে, ততক্ষণ আরব সমাজ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।”
এতসব সমালোচনা ও উত্তেজনার মধ্যেই এল্লা ওয়াউইয়া আরব তরুণদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করছেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলি সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার একটি বড় প্রবেশদ্বার এটি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতিতে এল্লার সাবলীল উপস্থাপনা এবং আরব সংস্কৃতির ওপর দখল ইসরায়েলের বয়ান প্রচারে আইডিএফের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।