
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দায়িত্ব পালনকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এ বছর সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক কর্মী ও কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির অসহযোগিতা এবং বিরূপ আচরণের মুখে পড়েছেন। এতে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম হয়েছে।
বিএমএসএফ জানায়, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা সময়মতো পর্যবেক্ষক কার্ড পাননি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ প্রবেশে বাধা, তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা এবং নির্বাচন-পূর্ব রাত, ভোটগ্রহণের দিন ও গণনার সময় কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে—যা গণমাধ্যমের কাজের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
রাজধানীতে দৈনিক যুগান্তর-এর স্টাফ রিপোর্টার আখিনুর আক্তার দায়িত্ব পালনকালে হয়রানির শিকার হন। নোয়াখালীর হাতিয়ার চরঈশ্বর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে রামদার কোপে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক সাকিবও জখম হন।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় The Asian Age-এর বশির আল মামুন, দৈনিক ডেস্টিনি-এর এস এম রুহুল কাদের এবং দৈনিক নিরপেক্ষ-এর মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন আহত হন। এছাড়া নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বাংলাদেশের আলো-এর সাংবাদিক টিটুকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় নেতারা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিকভাবে সাংবাদিক নির্যাতনের হার কমেছে, যা ইতিবাচক দিক। তবে যেকোনো হামলা, হুমকি বা হয়রানি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী—এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করে। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সংগঠনের ঘোষিত ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।


