প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:৫৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১০:৫৫ পি.এম
কর্ণফুলীর কূলে কবির শতবর্ষ : নজরুল বর্ষে আবৃত্তি আসর বরিশালের ব্যতিক্রমী আয়োজন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :: চলমান নজরুল বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক প্রথম আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘কর্ণফুলীর কূলে কবির শতবর্ষ’। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল চত্বর (টিএসসি সংলগ্ন) প্রাঙ্গণে আবৃত্তি আসর বরিশালের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কবির সাহিত্য, সংগ্রামী চেতনা ও মানবিক দর্শনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়।
আয়োজকরা জানান, ১৯২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজী নজরুল ইসলাম প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে পদার্পণ করেছিলেন। কর্ণফুলীর তীরের সেই সফর তাঁর সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ১০০ বছর পূর্তি এবং জাতীয়ভাবে পালিত নজরুল বর্ষের তাৎপর্যকে সামনে রেখেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কবির চট্টগ্রাম আগমনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় নজরুলের বিদ্রোহ, সাম্য, প্রেম ও মানবতার চেতনায় উজ্জ্বল নির্বাচিত কবিতা। আবৃত্তিকারদের কণ্ঠে কবির উচ্চারণে লাল চত্বর জুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। অনুষ্ঠান শেষে সেরা পরিবেশনাকারীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আবৃত্তি আসর বরিশালের সদস্য সচিব আবু সাঈদ বলেন, “নজরুলের চট্টগ্রাম আগমনের শতবর্ষ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণের উপলক্ষ নয়; এটি নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগ্রামী চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ও মানবিক দর্শন পৌঁছে দেওয়ার একটি সাংস্কৃতিক দায়িত্ব। আমরা চাই আবৃত্তির মাধ্যমে ইতিহাসকে মানুষের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করতে।”
আবৃত্তি আসর বরিশালের সদস্য সচিব আবু সাঈদ বলেন, “নজরুলের চট্টগ্রাম আগমনের শতবর্ষ একটি ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা এটি নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগ্রামী চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়ার একটি উপলক্ষ। আমরা চাই ইতিহাস ও আবৃত্তির মাধ্যমে সেই চেতনাকে জীবন্ত করে রাখতে।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আবৃত্তিকার রাহেলা সাদমুন মিশরী বলেন, “নজরুলের কবিতা উচ্চারণ মানে তাঁর বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার অনুভূতিকে নিজের ভেতর ধারণ করা। এই শতবর্ষের আয়োজনে অংশ নেওয়া আমার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল একটি ব্যতিক্রমী অনুষঙ্গ। কবির প্রিয় মিষ্টান্নগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত রসগোল্লা উপস্থিত আবৃত্তিকার, অতিথি ও দর্শকদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি ছিল নজরুলকে স্মরণ করার প্রতীকী প্রয়াস যেখানে কবিতার আবেগের সঙ্গে মিষ্টিমুখের আন্তরিকতাও মিলেমিশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
আয়োজকদের মতে, জাতীয় কবির চিন্তা, সাম্যবাদী চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মানবমুক্তির বার্তাকে সমাজের আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন। সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও ইতিহাসভিত্তিক নানা আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
Copyright © 2026 Crime Times. All rights reserved.