লাইফস্টাইল ডেস্ক :: কাইলি জেনার অন্তর্বাসের দাম ৬১৭ কোটি টাকা।
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও র্যাম্পে ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের বিশেষ ডিজাইনের ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। হীরা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো ব্রাটির দাম ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।
মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ফিরল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে নকশা ও অলংকারে বিশেষ আয়োজন করেছে ব্র্যান্ডটি।
এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। মাঝখানে রয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল হলুদ হীরা।
ব্রাটিটি তৈরি করতে ১৫ জন কারিগরের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ডের কাছাকাছি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এর আগের রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।
সপ্তাহের ৭ সেরা লুকের আলোয় জেনিফার ও কার্দাশিয়ানরা
র্যাম্পে কাইলির পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে হীরাখচিত ব্রাটি।
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান বলেন, এবারের শোর অন্যতম ভাবনা ছিল ভক্তদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই এবার জমকালোভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তার ভাষায়, কাইলি একজন ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’, যিনি ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও ব্যাপক প্রভাব রাখেন।
ব্রাটির অলংকার নির্মাণে কাজ করেছে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, ব্রাটিতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।
তবে এত দামি অলংকার তৈরি করাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে মানানসই হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে, এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।
ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় ৩০ বছরের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।
২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা একদিকে যেমন প্রচারণার বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে এটি গয়না নির্মাণের জটিল কারিগরি দক্ষতারও উদাহরণ। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ভাষ্য, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া।
সূত্র: ভোগ