নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকায় এক বিধবা নারীর দুটি ফলজ কাঁঠালগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাঈদের বিরুদ্ধে। গাছ দুটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই নারী ও তাঁর ছেলে বাধা দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করায় গাছ দুটি নিয়ে যেতে পারেননি ওই বিএনপি নেতা। গত বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বিধবা মুকুল বেগম বলেন, কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। কাঁঠালগাছ দুটি থেকে প্রতিবছর প্রচুর ফল পাওয়া যেত। সেসব ফল বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে সহায়তা পেতেন তিনি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি নেতা সাঈদ সিকদার গাছ দুটি কেটে ফেলেন। এ সময় তিনি ও তাঁর ছেলে সাদ্দাম বাধা দেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের বাধায় গাছ দুটি নিয়ে যেতে পারেননি ওই নেতা।
মুকুল বেগম আরও বলেন, তাঁদের এক ওয়ারিশের কাছ থেকে জমি কিনেছেন সাঈদ সিকদার। সেই জমির মালিকানা দাবি করে তিনি গাছ দুটি নিজের বলে দাবি করছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন সাঈদ সিকদার। জমি দখল, গাছ কেটে নেওয়া, জোরপূর্বক পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া এবং মানুষের সঙ্গে অযাচিত আচরণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভয়ে অনেকে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাঈদ। তিনি বলেন, “জমি ও গাছ আমার। আমি গাছ কেটে নেওয়ার সময় তারা বাধা দিয়েছে, তাই নিয়ে যাইনি। আগামী সোমবার এ বিষয়ে সালিশ হওয়ার কথা রয়েছে।” বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহন মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক মনির হাওলাদার অবগত রয়েছেন।
চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহরাব হোসেন বলেন, সাঈদ সিকদার ওয়ারিশের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। জমির মাপজোখ ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। নিজের মাপ অনুযায়ী গাছ দুটি জমির মধ্যে পড়েছে দাবি করে সাঈদ সিকদার গাছ কেটেছেন। বাধার মুখে গাছ নিয়ে যেতে পারেননি। আগামী সোমবার জমি মাপজোখের কথা রয়েছে। সেদিন বিষয়টির সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।