
ধীমান ঢালী, ববি প্রতিনিধি :: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সফর করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে একটি পরিবেশবান্ধব সবুজ চত্বর হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। আলোচনা সভা শেষে বেলা ১২টা ১০ মিনিটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিম ও আমগাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতি কেবল ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়, এটি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনেরও একটি অন্যতম মাধ্যম। যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে বা করতে চায়, তাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই সেটি প্রমাণ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সকল সামাজিক সংগঠনকেও তাদের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারেক রহমান দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করে এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করছেন। রাজপথের আন্দোলন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সামাজিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্র সংস্কার-সংক্রান্ত বিভিন্ন যুগোপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যে নিজেকে একজন যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেমদের জন্য সরকারের চলমান কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।