নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারের বাজেট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির সাংঘর্ষিক অবস্থান অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি নিয়ে এবি পার্টির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।
বিবৃতিতে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সরকারের সম্প্রসারণ-মুখী জাতীয় বাজেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মধ্যে বিদ্যমান সাংঘর্ষিক অবস্থান রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুতর সমন্বয়হীনতার বহিঃপ্রকাশ। একই সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে বিপুল ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন এবং অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। জাতীয় বাজেট পাসের দিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা প্রমাণ করেছে যে একই সরকারের ভেতরেই অর্থনৈতিক দর্শন ও নীতির কোনো ঐক্য নেই। সরকার যদি সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণ করে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে, তাহলে এর খেসারত দিতে হবে দেশের সাধারণ মানুষ, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের।
তিনি আরো বলেন, টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির যন্ত্রণা ভোগ করছে। অথচ সরকার উৎপাদন ব্যয় কমানো, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মতো মৌলিক পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল ঋণনির্ভর বাজেটের ওপর নির্ভর করছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হবে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি মূলত ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটজনিত। এটিকে শুধু সুদের হার বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের ভুল নীতি, ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা দূর না করলে কঠোর মুদ্রানীতিও কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। সরকারের উচিত কৃত্রিম প্রবৃদ্ধির গল্প শোনানো বন্ধ করে জনগণের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা স্বীকার করা। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি আরও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাবে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির অসামঞ্জস্য দূর করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একটি সমন্বিত, বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান ব্যারিস্টার ফুয়াদ।