দানিসুর রহমান লিমন, বিশেষ প্রতিবেদক :: ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজ সেবা কর্মকর্তা (রেজিঃ) চন্দন কুমার মিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিবন্ধন, নামের ছাড়পত্র, কমিটি অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধ সুবিধা না পেলে নানা ধরনের আপত্তি দেখিয়ে ফাইল ঝুলিয়ে রাখেন এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করেন।
অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনটির কমিটি অনুমোদনের জন্য ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে আবেদন জমা দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। বরং যোগাযোগের ক্ষেত্রে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া চিকিৎসকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ চাইল্ড নিউরোলজি সোসাইটি (বিসিএনএস)’ নামের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। একইভাবে ‘ফেয়ার হেলথ কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম সংশোধন আবেদন এবং ‘স্পেশাল বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন’-এর বিভিন্ন কার্যক্রমও দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তা চন্দন কুমার মিত্রের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায়, অন্যথায় নানা আপত্তি দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয়। ফলে বহু সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চ পর্যায়ের পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি নিজেকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগকারীর দাবি করেছেন যে ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার আচরণে আতঙ্কিত পরিবেশে কাজ করছেন। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে দ্রুত বদলি বা অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা (রেজিঃ) চন্দন কুমার মিত্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার মতামত জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সমাজকল্যাণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হলে সেবাগ্রহীতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।