
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দলগুলোও এ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
এর মধ্যে রাজধানীতে দুই সিটির মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।
ইশরাক হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট করে জয় পান। নতুন সরকারে তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইশরাক হোসেন এবার সংসদ, মন্ত্রণালয় ছেড়ে আসতে চান নগর ভবনে।
এর আগে, ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত ডিএসসিসি মেয়র পদে নির্বাচন করেন ইশরাক হোসেন। ঘোষিত ফলাফলে তাকে পরাজিত দেখানো হয়, তবে তিনি তিনি এই ফলাফল না মেনে আদালতে গিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে আদালত তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেন। রায় অনুযায়ী, পরে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছিল ইসি।
তবে, মেয়র পদে বসা হয়নি তার। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিষয়ক তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে তার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। মেয়রের চেয়ারে বসতে ইশরাকের অনুসায়ী ঢাকা দক্ষিণের নগর ভবন ঘেরাওয়ের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার আশপাশেও অবস্থান নিয়েছিল। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
এদিকে, এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও নির্বাচন করবেন ডিএনসিসির মেয়র পদে, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গতকাল রোববার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর একদিনের মাথায় ইশরাক হোসেনও দিলেন মেয়র নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা। তার পিতা সাদেক হোসেন খোকা-ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করেপারেশনের মেয়র ছিলেন।
তবে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে তার দল সমর্থন দেবে কি না, এ নিয়ে রয়েছেও প্রশ্ন। দলটির সূত্রে জানা যাচ্ছিল, যারা সংসদ নির্বাচন করেননি, এমন প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বিএনপি।
অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদের ক্ষেত্রেও জোটগত ঝামেলার বিষয়ও সামনে আসছে। জামায়াত সূত্রে জানা যাচ্ছে, তারা ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মেয়র পদে ছাড় দিতে চায় না। ঢাকা দক্ষিণের জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে, গেলো নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে দলটির পরাজিত প্রার্থী হাজি মো. এনায়েত উল্লার নাম।
উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত আইনগুলো সংশোধন করেছে। পরিবর্তন করা হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশও। এসব অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের অনুমোদন পেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আবারও নির্দলীয় পদ্ধতিতে হবে।
তবে, ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সমর্থিত প্রার্থী দেবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে, এমনটা জানা যাচ্ছে।


