স্টাফ রিপোর্টার :: তালাকপ্রাপ্ত সুইটি আক্তার ও তার বর্তমান স্বামী ফরাদ ব্যাপারী একত্রিত হয়ে প্রথম স্বামী সোহাগ হাওলাদার কে পরিকল্পিতভাবে গুম বা খুনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সোহাগ হাওলাদার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সালেক হাওলাদারের ছেলে সোহাগ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তার সাথে বিয়ে হয় ঝালকাঠি নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের চাচৈর গ্রামের খলিল মাঝির মেয়ে সুইটি আক্তারের (২৬)। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান (সাবিহা ইসলাম) জম্ম গ্রহণ করেন।
চলতি বছরের ৮ মার্চ সকাল ১১ টার দিকে মুঠোফোন কল দিয়ে সুইটি বলেন, মেয়ে সাবিয়া অসুস্থ। সারাদিন বাবা এবং বাবাকে দেখতে চায়। বিকেল ৩ টায় ঢাকা ডেমরা বাসস্ট্যান্ড ওভার ব্রিজের নিচে আসিও। রাস্তায় মেয়েকে দেখার পর জ্ঞান ফিরে আমি নিজেকে দেখতে পায় একটি ভবনের মধ্যে। কীভাবে আসলাম তা জানি না। মেয়ে আমার কাছে নেই। রয়েছে সুইটি ও তার স্বামী ফরহাদ সহ ৪/৫ জন লোক। সুইটি বোরকা ও মাক্স পরিহিত অবস্থার মধ্যে ফরহাদ ভিডিও করছেন।
তারা আমাকে বলছে, নারী নিয়ে ভবনে অনৈতিক কাজ করতে ঢুকেছো। এ কথা বলে তারা আমাকে বেদম মারধর করে ১০০ টাকার ৩টি স্ট্যাম্পে এবং আমার সাথে থাকা ইস্টান ব্যাংকের ৩টি চেক পাতায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় এবং সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে গেলেও যাবার সময় মোবাইল দিয়ে দেয়। বের হবার সময় আমি দেখতে পাই মাতুয়াইল আলামিন রোড মসজিদ সংলগ্ন একটি ভবনে আমাকে তারা নিয়েছিল।
প্রায় ১ মাস পর একটি ইউটিউব চ্যানেলে (নাগরিক ভিউ) "লিফ্ট প্রতিনিধি পরিচয়ে ভবনে ঢুকে অনৈতিক কাজে হাতেনাতে আটক" শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার হয়।
বিয়ের পর চাকুরি করার সুবাদে গ্রাম ছেড়ে সুইটিকে নিয়ে ঢাকা মধ্য বাড্ডায় বসবাস শুরু করি। চাকুরির সুবাদে বন্ধুত্বের মতো পরিচয় হওয়া লিফ্ট টেকনিশিয়ান ফরহাদ ব্যাপারী আমার বাসায় আসা-যাওয়ার মধ্যে সুইটি ও ফরহাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে।
ফরহাদ হলেন- চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় ছেংগারচর (সিঙ্গার চর) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ঢাকা মাতুয়াইল আমান সিটি এলাকায় অবস্থিত "সেভ বিল্ডিং অটোমেশন" নামক প্রতিষ্ঠানে লিফ্ট টেকনিশিয়ান পদে চাকুরি করেন এবং মালিবাগ এলাকায় বসবাস করেন। ফরহাদের দুই বিয়ে এবং দুই সংসারেই সন্তান রয়েছে।
স্ত্রী সুইটিকে নানাভাবে বুঝিয়ে ব্যর্থ হবার পর আমি তালাক দেই এবং কাবিননামার (নিকাহনামা) টাকা ঝালকাঠি জেলা লিগ্যাল এইড এর মাধ্যমে পরিশোধ করি। পরে সুইটি বিয়ে করে ফরহাদকে। তালাকের পর সুইটি বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন। মামলার হাজিরা সময় আসা-যাওয়ার পথে সুইটি ও তার স্বামী ফরাদ সহ খলিল মাঝি, হাসান মাঝি ও আমির মাঝি মিলে গুম বা খুন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে আমি নিরাপদ স্থানে পৌঁছাই।
তবে আমি আমার নাবালিকা কন্যা সন্তান সাবিহা ইসলাম কে ফিরে পাওয়ার জন্য আমি বাদী হয়ে ঝালকাঠি পারিবারিক জজ আদালত আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। ক'দিন পর সুইটি ঝালকাঠি বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমাকে সহ আমার মা ও বোন মিলিয়ে তিন জনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যা চলমান রয়েছে।
আমি চাই শান্তি এবং সমাধান। কিন্তু তারা গুম খুনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুইটিকে কাবিননামার (নিকাহনামা) টাকা পরিশোধ করার পরও ফরহাদকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ন্যায্য বিচার।
অভিযুক্ত সেভ বিল্ডিং অটোমেশন" নামক প্রতিষ্ঠানের লিফ্ট টেকনিশিয়ান ফরহাদ ব্যাপারী মুঠোফোনে বলেন, এ সব মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্র। সুইটির ফোন বন্ধ থাকায় তার পিতা খলিল মাঝি মুঠোফোনে বলেন, সোহাগ তালাক দেয়ার পর তার মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হয়েছে। কাবিননামার দেন মোহনও সোহাগ দিয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে সুইটির দায়েরকৃত ৭ ধারার একটি মামলা চলমান রয়েছে। গুম বা খুনের চেষ্টা তারা করছে না তাদের পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে জানান।