মাইদুল ইসলাম শফিক, বানারীপাড়া :: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে একই দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া বাবা ও ছেলে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ছেলের দায়ের করা প্রতারণার মামলায় বাবা মিজানুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে বিটিসিএলের দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন ছেলে তরিকুল ইসলাম মিঠু। একই দিনে বাবা-ছেলের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলুহার ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মিজানুর রহমান। তিনি ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি। অন্যদিকে, তাঁর বড় ছেলে তরিকুল ইসলাম মিঠুও একই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় ছিল।
মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বড় ছেলে তরিকুল ইসলাম মিঠুর দায়ের করা প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হন চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগে মিজানুর রহমান তাঁর বড় ছেলে তরিকুল ইসলাম মিঠুকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছিলেন। পারিবারিক বিরোধের মধ্যে ছেলের দায়ের করা মামলায় বাবার গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় আলোচনার জন্ম দেয়।
বাবার গ্রেপ্তারের প্রায় দুই ঘণ্টা পর, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে গ্রেপ্তার হন ছেলে তরিকুল ইসলাম মিঠু। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিটিসিএলের দায়ের করা ঢাকার পল্টন থানার একটি মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বানারীপাড়া থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে বরিশাল জেলা কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইলুহারে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া বাবা ও ছেলের একই দিনে পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক বিরোধ এবং নির্বাচনে বাবা-ছেলের পৃথক প্রার্থিতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণার মামলার বিস্তারিত অভিযোগ, আদালতের আদেশ এবং তরিকুল ইসলাম মিঠুর মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত বা আইনজীবীদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।