প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৭:৩২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৫:৩৬ পি.এম
দেশটা সবার, হিন্দু-মুসলমানের নয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি, মনিরুজ্জামান খান ফারুক

মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয় :: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বরিশাল মহানগরীর ৪৮টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, তাদের খোঁজখবর গ্রহণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা দেন তিনি। নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে প্রান্তিক জনপদের মন্দিরগুলোতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশটা সবার, হিন্দু-মুসলমানের নয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এবারের দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর দিন হতে নগরীর ভাটিখানা সার্বজনীন দুর্গামন্দির থেকে পরিদর্শন শুরু করেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। এরপর কাউনিয়া, নতুনবাজার, শংকর মঠ, রামকৃষ্ণ মিশন, হাসপাতাল রোড, সদর রোড, কাটপট্টি ও বাজার রোডসহ নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। পাশাপাশি রূপাতলী, সাগরদী, কালিজিরা নদীসংলগ্ন এলাকা, জাগুয়া, কাশীপুর ও গড়িয়ার পাড়ের বিভিন্ন মন্দিরেও যান। কোনো কোনো দুর্গম এলাকায় যানবাহন নিয়ে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় হেঁটে পূজামণ্ডপে যান তিনি। পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের উৎসব উদ্যাপন, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সমস্যার খোঁজ নেন। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রাক্তন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং মন্দির ভিত্তিক পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, “ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। মানুষের পরিচয় তার ধর্ম দিয়ে নয়, মানুষ হিসেবেই তার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে অবহেলা করা কিংবা অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশেরই নাগরিক; তাদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানুষের রক্তের কোনো ধর্মীয় বিভাজন নেই। দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা করতে হবে।
ধর্মকে ব্যবহার করে যারা মানুষের মধ্যে বিভেদ, বিদ্বেষ ও বিরোধ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা উসকানির কারণে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মনিরুজ্জামান ফারুক।
বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের সব মানুষকে অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করার শিক্ষা দেয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি, আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে ফারুক বলেন, এবারে দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়িয়ে সাপ্তাহিক বন্ধসহ পাঁচ দিনে উন্নীত করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চাওয়া চার কোটি টাকার বিপরীতে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূজা উপলক্ষে মন্দির ভিত্তিক খাদ্যশস্য বরাদ্দ ৫০০ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৬০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগকে তিনি ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনে সহযোগিতা এবং সব নাগরিকের প্রতি সমান মর্যাদা প্রদানের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শোনেন বিএনপির এই নেতা। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। ফারুক বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই রাজনৈতিক কর্মীদের দায়িত্ব। নির্বাচনের সময়ের পাশাপাশি অন্য সময়েও মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই নিরাপদে বসবাস করবেন, একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে সমান অধিকার পাবেন। বাংলাদেশ কারও একার নয়; এ দেশ সব নাগরিকের। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক আমাদের শক্তি।” সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
Copyright © 2026 Crime Times. All rights reserved.