নিউজ ডেস্ক :: নীরব ত্যাগের প্রতিচ্ছবি বাবা, বাবাই সন্তানের প্রথম সুপারহিরো
বাবা মানেই নির্ভরতা। সন্তানের প্রথম নায়ক বা সুপার হিরো তার বাবা। ছোটবেলায় হাত ধরে স্কুলে পৌঁছে দেয়া, সাইকেল চালানো শেখানো কিংবা নিজের শখ আড়ালে রেখে সন্তানের পাশে ছায়া হয়ে দড়িয়ে থাকার নাম বাবা। বাবারা যেন নীরব ভালোবাসার প্রতীক। বাবাকে নিয়ে আবেগ প্রকাশের জন্য কোনও নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন না হলেও, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় বাবা দিবস। দিনটি বাবাদের অবদান, ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি উপলক্ষ।
যেভাবে এলো বাবা দিবস
বাবা দিবসের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এর পেছনে রয়েছে এক মেয়ের বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার গল্প।
১৯০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা সোনোরা স্মার্ট ডড নাবের এক নারী তার বাবার প্রতি সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিনের কথা ভাবেন। তার বাবাউইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট ছিলেন একজন গৃহযুদ্ধের প্রবীণ সৈনিক, যিনি স্ত্রীর মৃত্যুর পর একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তুলেছিলেন।
মা দিবসের অনুষ্ঠান দেখে সোনোরা মনে করেন, মায়েদের মতো বাবাদের অবদানও সমানভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। তাঁর উদ্যোগেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটনে বাবা দিবস উদযাপিত হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই দিবস জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর বিশ্বের বহু দেশ এই দিনটি পালন শুরু করে।
কেউ বাবাকে ভালোবেসে হাতে লেখা চিঠি দেন আবার অনেকে উপহারের সঙ্গে নোট লেখে দেন। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
দিবসটি যেভাবে পালন করা হয়
বাবা দিবস উদযাপনের ধরন দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হলেও মূল উদ্দেশ্য এক বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। এই দিনটি একেকজন একেকভাবে পালন করেন। কেউ বাবাকে ভালোবেসে হাতে লেখা চিঠি দেন আবার অনেকে উপহারের সঙ্গে নোট লেখে দেন। আবার দেখা যায় অনেকে বাবাকে সময় দেন তার পছন্দের খাবার রান্না করেন। একসঙ্গে ঘুরতে যান বা বিশেষ ডিনারের আয়োজন করেন। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ তার সঙ্গে ছবি এগুলো তো রেওয়াজের মতো হয়ে গিয়েছে এখন। যদিও অনেকে নীরবে বাবাকে ভালোবাসেন। ফোনের স্ক্রিনে বাবার ছবি আলতো করে ছোটবেলায় ফিরে যান অনেক সন্তান।
যাদের বাবা আর বেঁচে নেই, তারা বাবার কবর জিয়ারত করেন।আবার অনেকে বাবার সঙ্গে কাটানো সুন্দর সময় তার দেয়া শিক্ষা মনে করেন আবার নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেয়ার কথাও ভাবেন। সবমিলিয়ে বাবাকে ভালোবেসে বিশেষ এই দিনটি পালন করা হয়।
সমাজে বাবাদের অনেক ভালোবাসাই নীরব। অনেক বাবা হয়তো সহজে আবেগ প্রকাশ করেন না, কিন্তু পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়তে তারা আজীবন সংগ্রাম করে যান। বাবা দিবস সেই নীরব ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর একটি সুযোগ।
সূত্র: হিস্ট্রি