
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বরিশালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনফ্রা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর হোসাইনের অভিযোগ, তার ব্যবসায়িক অংশীদার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইমরান চৌধুরী সাধারণ কর্মচারীদের ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রকৌশলী আমীর হোসাইনের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়া সত্ত্বেও ইমরান চৌধুরী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা এই দ্বন্দ্বে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ:
যার মধ্যে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
একক আধিপত্য, নিজের অনুসারী শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বৈরাচারী পরিবেশ তৈরি করা এবং কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাকে বহিষ্কার এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো।
গতকাল সকালে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও এমএলএসএস মো. সুমন হাওলাদার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে গেলে বর্তমান অধ্যক্ষ সাব্বির ও ইমরান চৌধুরীর অনুসারীরা তাদের বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানায়।
তবে অধ্যক্ষ সাব্বিরের দাবি, শিক্ষক রফিকুল ও কর্মচারী সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একারণেই তাদের প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, “ইনফ্রা পলিটেকনিক শুরু থেকেই সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান মালিকানা দ্বন্দ্ব ও প্রায়ই ঘটে যাওয়া হট্টগোলে এলাকার শান্তি ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা চান, উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে একটি স্থায়ী সমাধান করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে না পড়ে।


