
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে আওয়ামী লীগ অফিসে একের পর এক জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা ওড়ানো হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এ দলটির সব দপ্তরই জুলাই বিপ্লবের পরে আক্রান্ত হয়। অনেক অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। নেতা-কর্মীদেরও বেশিরভাগই পলাতক। সে থেকে দলীয় কার্যালয় দেখাশোনারও কেউ নেই। পরিত্যক্ত এসব অফিসের বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও এতদিন রাতের বেলায় নেশাখোরদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। অনেকগুলো গণশৌচাগারের রূপ ধারণ করেছে।
তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পতাকা ওড়ানোর একদিন পরেই বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অফিসেও দলীয় পতাকা এবং ব্যানার ঝোলানো হয়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের এনেক্স ভবনের নিচতলার কয়েকটি কক্ষ আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল গত প্রায় দুই দশক ধরে। আধা সরকারি কোনো অফিস ভবন কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে ভাড়া দেওয়ার বিধান আছে কিনা, সে সম্পর্কে নগর ভবনের কেউ কিছু বলতে পারেননি। তবে অপর একটি সূত্রের মতে, ‘সিটি করপোরেশনের এনেক্স ভবনের নিচতলায় বিদ্যুৎ বিভাগের একটি অভিযোগ ও সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া আছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়’।
সেখানেই গত প্রায় দুই দশক আওয়ামী লীগের জমজমাট অফিস জুলাই বিপ্লবের পরে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে সেখানে দলীয় ও জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে। তবে কে বা কারা এ কাজটি করেছে তা জানা না গেলেও পরিত্যক্ত ওই ভবনে যুবদলের এক নেতার নামে ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, মরহুম আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ছবি শোভা পাচ্ছিল। পুলিশ বিষয়টি অনুসন্ধানের কথা বললেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে খুব অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
তবে এর কয়েকদিন পরেই ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রত্যুষে বরিশালেরই বানারীপাড়া সদরের উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সাটারের সাথে দলীয় ও জাতীয় পতাকা ওড়ানো ছাড়াও শেখ মুজিবুর রহমান ও দলনেত্রী শেখ হাসিনার বাঁধাইকৃত ছবিও ঝোলানো হয়েছে। স্থানীয় কেউই এর সাথে কে বা কারা জড়িত, তা বলতে পারেননি। বানারীপাড়া থানার ওসি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।


