নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগীয় সদরেই গত তিনদিন ধরে প্রতিঘন্টা অন্তর এক ঘন্টা করে লোডশেডিং জনজীবনে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ভোগ তৈরী করছে। বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাতীয় গ্রীডে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও সেখান থেকে এ অঞ্চলের চাহিদার অর্ধেকও সরবারহ করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সাধারন মানুষের হতাশা ক্রমশ ক্ষোভে পরিরনত হচ্ছে। বুধবার পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট পুনরায় উৎপাদনে ফিরে আসায় জাতীয় গ্রীডে আরো ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে। গত মাসাধিকালজুড়ে বিদ্যুতের সংকট গত তিনদিনে ভয়াবহ আকার ধারন করায় এ অঞ্চলের সুস্থ জনজীবনকে চরম বিপর্যয়ে পৌঁছে দিয়েছে। সকাল থেকে দিনভর বিদ্যুৎ সংকট মধ্যরাত পেরিয়ে পরদিন সকাল পর্যন্তই অব্যাহত থাকছে। বিতরণ কোম্পানীও ট্রান্সফর্মার সহ বিদ্যুতের তার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি নিয়ে চরম উৎকন্ঠায়। লোশেডিং’র সুযোগে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ তার সহ সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিতরণ কোম্পানী থেকে মহানগরীতে মাইকিং করে সবার সহযোগীতাও চাওয়া হচ্ছে।
মধ্যরাতের পরে ঘুটঘুটে অন্ধকারে মহানগরী সহ এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গত তিনদিনে ৬০-৭০ ভাগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার্থীদের জীবনই প্রায় ওষ্ঠাগত। অর্ধ লক্ষাধিক ছাত্রÑছাত্রীর পড়াশোনা সহ পরীক্ষার টেবিলে বসা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। অনেক কেন্দ্রে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উত্তরপত্র লেখাই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিদ্যুতের হাহাকারে বেশীরভাগ হাসপাতালেই জরুরী অস্ত্রপচার পর্যন্ত বন্ধ। বরিশাল মহানগরী সহ এ অঞ্চলের ২৫টি পৌর শহরে পানি সরবরাহ পর্যন্ত বিপর্যস্ত।
চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় ভয়াবহ পর্যায়ে পৌছায় সাধারন মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে ঘরে পড়ালেখা যেমনি ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েও উত্তরপত্র লিখতে চরম বিড়ম্বনার সম্মুখিন অর্ধ লক্ষাধিক পরিক্ষার্থী। অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রেই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পরিক্ষার্থীদের হাতের ঘামে উত্তরপত্র নষ্ট হবার মত ঘটনা ঘটছে।
আরও দেখুন
ব্যবসা-বানিজ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবস্থা সব বর্ণনার বাইরে। দিনভর লোডশেডিং সন্ধ্যার পরেও অব্যাহত থাকায় এ অঞ্চলের শপিংমল ও মার্কেট সহ সর্বত্রই ব্যবসা-বানিজ্যে ভয়াবহ ধ্বস নেমেছে। প্রতিঘন্টায় লোডশেডিং-এর কারণে ওষুধ শিল্প সহ রপ্তানিমুখী জুতা কারখানায়ও উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে। ইতোমধ্যে প্রায় সব কারখানাতেই রাতের শিফটে উৎপাদন বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
পশ্চিম জোন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানী-ওজোপাডিকো’র বরিশাল সার্কেল থেকে বারবারই সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য সদর দপ্তরে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানী- পিজিসিবি’র পক্ষ থেকেও জাতীয় উৎপাদনের হিস্যা মাফিক বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বারবারই অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু এ অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গত মাস খানেক ধরে ৪শ মেগাওয়াটের বেশি পাওয়া যাচ্ছেনা। গত তিনদিন ধরে তা কখনো কখনো সাড়ে ৩শ মেগাওয়াটেও হ্রাস পাচ্ছে।